৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লির ভোটার তালিকা সংশোধন: ভিআইপিদের নোটিশ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

Published: September 21, 2026, 3:22 pm

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা ‘এসআইআর’ (SIR) নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের পর এবার দিল্লির খসড়া ভোটার তালিকায় এই প্রক্রিয়ার আওতায় নাম আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তালিকায় সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী এল.কে. আদভানি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়, দিল্লির সাবেক উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া, সাবেক নির্বাচন কমিশনার এস.এস. সান্ধু, ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী এবং সিবিআই অধিকর্তা প্রবীণ সুদের নামে নোটিশ জারি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ভাষ্যমতে, যাদের নথিপত্রে ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ পাওয়া গেছে কিংবা যাদের তথ্য ভোটার তালিকার সাথে মেলানো সম্ভব হয়নি, তাদেরই কেবল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, সংশ্লিষ্ট ভোটারকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এবং ‘যথাযথ কারণ-সহ ব্যাখ্যাযুক্ত ও আপিলযোগ্য আদেশ’ জারি না করে কোনো ব্যক্তির নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে না। দিল্লির প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, খসড়া ভোটার তালিকায় প্রায় ৯৭ লক্ষ নাম রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৩ দশমিক ১৩ লক্ষ ভোটারের তথ্যে অসংগতি থাকায় ৩১ দশমিক ৬৩ লক্ষের বেশি নোটিশ জারি করা হয়েছে।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এই প্রক্রিয়া নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, দিল্লির ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ কর্মসূচি কি ‘ভিআইপি ভোটার’ ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছে? খাড়গের অভিযোগ, বিহার থেকে শুরু হওয়া এই ত্রুটিপূর্ণ এসআইআর প্রক্রিয়া এখন এক ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন দানব’-এ পরিণত হয়েছে যা খোদ বিজেপির নিজেদের লোককেই বিপদে ফেলছে। তিনি একে ভোট চুরি ও গণতন্ত্র ধ্বংসের হাতিয়ার হিসেবে অভিহিত করেছেন।

কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এই প্রক্রিয়াকে ‘শাহ-প্ররোচিত অপসারণ’ ও ভোটাধিকার বঞ্চিত করার পদ্ধতি বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রয়াত অর্থনীতিবিদ বিবেক দেব্রয়ের নাম তালিকায় থাকা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। খাড়গে আরও উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় যাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া আপিলগুলোর ৯৩ শতাংশেই আবেদনকারীরা সফল হয়েছেন এবং ১,১৩,৯৪৩ জন মানুষ পুনরায় তালিকায় স্থান পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে জমা দেয়া হলফনামায় পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৩৭ লক্ষ আপিলের ধীরগতির বিষয়টি স্বীকার করেছে। যদিও কমিশন দাবি করেছে, এসআইআর মানেই নাগরিকত্ব হারানো নয়, তবুও সাধারণ মানুষ আইআইটি-তে পিএইচডি আবেদন আটকে যাওয়া, পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতা ও অন্য রাজ্যে শ্রমিকদের হয়রানির মতো নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে একটি হলফনামা জমা দিয়েছে, যেখানে বাংলায় এসআইআর-এর মাধ্যমে নাম বাদ দেয়া ও নতুন নাম যুক্ত করার বিষয়ে দায়ের করা প্রায় ৩৭ লক্ষ আপিলের ধীরগতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভিআইপিদের নিয়ে কমিশনের এই বিবৃতি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রমেশ পরবর্তীতে সোমবার আরেকটি পোস্টে এসআইআর-এর আরেকটি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘ভারতীয়দের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার পদ্ধতি’ এটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সম্ভবত এখন নীতিনির্ধারকরা বুঝতে পারছেন কেন কংগ্রেস দল শুরু থেকেই এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করে আসছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কীসের ভিত্তিতে তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।