
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার পথে পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়া আসামি রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা (৩০) দুই দিন পার হলেও এখনো ধরা পড়েননি। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই পলাতক আসামির বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুরের মাদক কারবারসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গত ১৯ মে নেপাল থেকে ফেরার পথে বিমানবন্দর থেকে তাকে স্ত্রী ও শ্যালকসহ গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চলতি বছরের ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুরের মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত রাজাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, রাজা, তাঁর স্ত্রী ও শ্যালক নেপাল থেকে দেশে ফেরার খবর পেয়ে বিমানবন্দরে অবস্থান নেয় পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত রোববার বিচারিক কার্যক্রম শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালত থেকে ৩০ জন আসামিকে নিয়ে কাশিমপুর কারাগারের উদ্দেশে রওনা হয় প্রিজন ভ্যান। রাত সাড়ে আটটার দিকে গাজীপুর মহানগরের বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে রাজা শৌচাগারে যাওয়ার বায়না ধরেন এবং চিৎকার শুরু করেন। দায়িত্বে থাকা একজন উপপরিদর্শক (এসআই) তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে শৌচাগারে যাওয়ার সুযোগ দিলে সুযোগ বুঝে সে পালিয়ে যায়। বাকি ২৯ আসামিকে পরে কারাগারে পৌঁছে দেওয়া হয়। পুলিশ ও কারাগার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সকালে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নিতে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ জন আসামিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে নেওয়া হয়। পরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে রাজাকে। তার সন্ধানে পুলিশের বিশেষ তৎপরতা চলছে বলে তিনি জানান।
কারা কর্তৃপক্ষের হেফাজত থেকে আসামি পলায়নের এই ঘটনায় দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)। পাশাপাশি ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার পরেও এমন ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।





