১৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোণার প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণ মামলার আসামি ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার

Kongsotime

Published: September 30, 2026, 5:12 pm

নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় এক বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী (বোবা) নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামী রবিউল আউয়াল ওরফে রবিনকে (২৪) মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার রবিন পূর্বধলা থানাধীন খলিশাউড় ইউনিয়নের পাবই (মাইজপাড়া) গ্রামের কামাল উদ্দিন তালুকদারের ছেলে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল আড়াইটার দিকে নেত্রকোণার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম কর্তৃক প্রচারিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী (৩২) জন্ম থেকেই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। প্রায় আট মাস আগে স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর থেকে চার বছরের শিশুপুত্র রাফিকে নিয়ে তিনি পূর্বধলা থানাধীন খলিশাউড় ইউনিয়নের পাবই (মাইজপাড়া) গ্রামে তার বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী রবিন প্রায়ই ওই নারীকে কু-প্রস্তাব দিত।

এরই ধারাবাহিকতায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে রবিন ওই নারীকে ইশারায় প্রতিবেশী নয়ন মিয়ার (৫৫) ফাঁকা ঘরে ডেকে নিয়ে গলায় চেপে ধরে ধর্ষণ করে। ঘটনার সময় প্রতিবেশী সাক্ষী মঞ্জুরি বেগম (৪৫) ওই ঘরের দিকে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত রবিন দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে ভুক্তভোগী নারী ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে তার ওপর হওয়া পাশবিক নির্যাতনের বিবরণ পরিবারকে জানান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর পূর্বধলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলার পর নেত্রকোণা জেলার পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলামের সার্বিক নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) ফয়সাল আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা ও আসামীর অবস্থান শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে এসআরবি-১, উত্তরা, ঢাকা এবং ডিএমপির বিমানবন্দর থানা পুলিশের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে আসামি রবিউল আউয়াল রবিনকে গ্রেফতার করে পূর্বধলা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি রবিন ধর্ষণের ঘটনার সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছের। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং আইনি প্রক্রিয়াকে আরও মজবুত করতে আসামির ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের অনুমতি চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে পৃথকভাবে আবেদন করা হয়েছে।