৫ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইয়েমেন যুদ্ধে নতুন করে আমিরাতের সম্পৃক্ততা ও সৌদি সমঝোতা

Published: October 20, 2026, 11:32 pm

ইয়েমেনের চলমান সামরিক সংঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ফের সম্পৃক্ত হতে সম্মতি জানিয়েছে। মূলত হুতি বিদ্রোহীদের মোকাবিলায় লড়াকু সরকারি বাহিনীকে পুনরায় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আবুধাবি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যানুযায়ী, সৌদি আরবও হুতিবিরোধী বিভিন্ন বাহিনীকে বিমান সহায়তা প্রদানে সম্মত হয়েছে। ইয়েমেনের সংকট নিরসনে উপসাগরীয় অঞ্চলের এই দুই প্রভাবশালী দেশ তাদের দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য কমিয়ে আনতে কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি বাহিনী আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন পেয়েছে।

সৌদি আরবে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে দেশটির জ্বালানি ও বিমানবন্দর অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হুতিদের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা প্রতিবেশী দেশগুলোর শাসকদের মধ্যে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এর আগে গত জানুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেন থেকে সব ধরনের সামরিক সহায়তা ও আর্থিক কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছিল, তবে বর্তমান অস্থিরতা তাদের সেই অবস্থানে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে। বিশেষ করে ‘জায়ান্ট ব্রিগেড’-এর মতো হুতিবিরোধী শক্তিশালী সামরিক ইউনিটগুলোর কার্যকর সক্ষমতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব হামলায় দেশটির বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব বাহিনীর উল্লেখযোগ্য অংশ ‘জায়ান্ট ব্রিগেড’-এর অন্তর্ভুক্ত, যাদের হুতিবিরোধী সামরিক জোটের কার্যকর শক্তিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নতুন করে অর্থায়নের উদ্যোগ সেই অবস্থান থেকে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেশটির ভূমিকা হবে সৌদি আরবকে রক্ষা করা।

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর চাওয়া অনুযায়ী, ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান সীমানা পুনরায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণভোট আয়োজনের দাবি দীর্ঘদিনের। ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছে।

সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) প্রধান আইদারুস আল-জুবাইদি ও সৌদি কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ না থাকলেও পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সৌদি আরব যদি এই গণভোটের পক্ষে অবস্থান নেয়, তবে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ওপর থাকা বর্তমান সামরিক নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো সৌদি বা আমিরাতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমিরাতের কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে এডেনভিত্তিক সরকার রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণে থাকা হুতিদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযানের ঘোষণা দেয়। বর্তমানে মারিবের মাজজার এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে লড়াই চললেও সাফল্য এখনো সীমিত। এর আগে এসটিসি প্রধান জুবাইদি দক্ষিণ ইয়েমেনের বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। সে সময় আমিরাতের অস্ত্রের চালানে সৌদি আরবের বিমান হামলার পর আবুধাবি নিজেকে গুটিয়ে নেয় এবং ইয়েমেনি সরকার জুবাইদির বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ তোলে। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারও জুবাইদির বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে বিচারের কথা জানায়।

এদিকে, বর্তমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিসরের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সৌদি আরবের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ আল-সিসি পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন ডেকেছেন। সিসি স্পষ্ট করেছেন যে, মিসর কোনো আক্রমণাত্মক হামলা চালাবে না, বরং তাদের মূল লক্ষ্য হবে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা। হুতিদের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনের মুখে তাইজ ও মারিব শহর রক্ষার লড়াইয়ে সৌদি আরব, আমিরাত ও মিসরের এই নতুন সমীকরণ আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও হুতিরা সাবেক দক্ষিণ ইয়েমেনের সীমানার বাইরে অবস্থিত তাইজ ও মারিব শহর দখলের লক্ষ্য ধরে রেখেছে।