৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবকে ‘ভূমিকম্প’ বললেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী

Published: September 21, 2026, 3:53 pm

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার অর্থনৈতিক প্রভাবকে একটি শক্তিশালী ‘ভূমিকম্পের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই যুদ্ধের নেতিবাচক কম্পন কেবল মধ্যপ্রাচ্যের সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত কাতার ইকোনমিক ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে তিনি আঞ্চলিক অস্থিরতার নানা দিক তুলে ধরেন।

শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং চলমান উত্তেজনার চক্র বন্ধ করা জরুরি। তিনি এমন একটি আঞ্চলিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন, যেখানে কোনো রাষ্ট্রই অন্য কোনো দেশের জন্য নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে গণ্য হবে না। তার মতে, এমন কোনো ব্যবস্থা টেকসই হতে পারে না যেখানে কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশকে ক্রমাগত নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলে রাখা হয়। উত্তেজনার উৎসগুলো চিহ্নিত করে পারস্পরিক আস্থা তৈরির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

আলোচনার এক পর্যায়ে কাতারের প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের আঁচ কাতারকেও স্পর্শ করছে। তবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, কঠিন এই পরীক্ষার মুখেও কাতার তার নিজস্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ভিত্তি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, সংকটের সময়ে জ্বালানি সরবরাহ, নৌপথের নিরাপত্তা এবং বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ঝুঁকির মুখে পড়ে, যা বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বৈঠকে কাতারের পক্ষ থেকে এই বার্তা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি পুনরায় গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি রক্ষায় সব পক্ষের দায়বদ্ধতা এবং উত্তেজনা প্রশমনের প্রয়োজনীয়তাই এখন প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: এরপর তা জ্বালানি সরবরাহ, নৌপথ এবং বিনিয়োগের পরিকল্পনার দিকে গিয়েছে।