
জ্বালানি তেল ও গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আখতার হোসেন। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত এক গণবিক্ষোভ সমাবেশে তিনি প্রশ্ন তোলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কলকাতায় গ্যাস ১ হাজার টাকায় পাওয়া গেলে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে কেন প্রতি সিলিন্ডারে ২ হাজার ৫০০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আখতার হোসেন বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠনের আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বারবার বলেছিল নির্বাচন হলেই সব সংকট দূর হয়ে যাবে। এই অস্বাভাবিক মূল্যের জবাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারকে দিতে হবে।’।
আখতার হোসেনের অভিযোগ, সরকার জনদুর্ভোগ লাঘব করার পরিবর্তে একদলীয় ও ফ্যাসিবাদী কাঠামোর সংবিধান টিকিয়ে রাখার মিশনে ব্যস্ত রয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সব সংকট দূর হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও গত ৯ মাসে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরং দেশে নিরাপত্তাহীনতা, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বেড়েছে। এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, গত নয় মাসে দেশের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দলটির ৪০ জনেরও বেশি নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি নিয়েও তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ৯ মাস পার হয়ে গেলেও দেশে কোনো কিছুরই উন্নতি হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক হয়নি, গণতন্ত্র ফেরেনি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যায়নি।’। জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘কলকাতায় কি বিশ্ববাজার বা যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনো প্রভাব পড়ে না। গত নয় মাসে নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দলটির ৪০ জনের বেশি নেতাকর্মী খুন হয়েছেন।
সমাবেশ থেকে এই এনসিপি নেতা অবিলম্বে জ্বালানি মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের জোর দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ব্যর্থতার দায় নিয়ে তাদের দ্রুত দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। পাশাপাশি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার সাথে সামঞ্জস্য রেখে একতরফা সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিলের দাবি জানান তিনি। এর পরিবর্তে জুলাই আন্দোলনের রায় অনুযায়ী একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের আহ্বান জানান এই সংসদ সদস্য। এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।





