
প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে আবারও পুরনো সমস্যার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচে বল দখল, আক্রমণ তৈরি ও কর্নার আদায়ের মতো কাজগুলো ঠিকঠাক করলেও গোল করতে পারেনি টমাস ডুলির শিষ্যরা। ম্যাচের পুরো চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আক্রমণভাগে ফিনিশিংয়ের অভাব ও সুযোগকে কাজে লাগাতে না পারার ব্যর্থতা বারবার ফুটে উঠেছে। এর আগে গত বছর আটটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ভারত ও ভুটানের বিপক্ষে সেই জয়গুলো বাদে বাকি ছয় ম্যাচের চারটি ড্র ও দুটি হারেও দলের লড়াইয়ের মানসিকতা ছিল লক্ষণীয়। কিন্তু চলতি বছর ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে টানা দুই হারে বাংলাদেশ যেন খেই হারিয়ে ফেলেছে। মাঝখানে জুনের প্রীতি ম্যাচে সান মারিনোর বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়টি কিছুটা আশার আলো দেখালেও, প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে দলের সেই চিরচেনা গোলখরা কাটেনি। গোল হজম করেছে বাংলাদেশ, আবার গোল শোধ করে ম্যাচে ফিরেছেও। দুটিতেই হার, হজম করেছে চার গোল; বিপরীতে করতে পারেনি একটি গোলও। আসিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিপক্ষেও একই চিত্র দেখা গেছে। যদিও আক্রমণগুলোতে ফিনিশিংয়েরও ঘাটতি ছিল।
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আজকের ম্যাচে পুরো সময়জুড়ে বাংলাদেশ নয়টি কর্নার পেয়েছে। এছাড়া ১৯ মিনিটে রাকিব হোসেন এবং ৬৪ মিনিটে শমিত শোমের নেওয়া শটগুলো গোলের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধে ৪৬ থেকে ৭৯ মিনিটের মধ্যে তিনটি চমৎকার আক্রমণ গড়েছিল বাংলাদেশ, কিন্তু প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুরের ডিফেন্ডাররা সেই প্রচেষ্টাগুলো রুখে দিতে সক্ষম হন। সব মিলিয়ে আক্রমণ সাজানোর সুযোগ থাকলেও শেষ মুহূর্তে জালে বল পাঠানোর কাজটি ছিল অধরা। গোলমুখে সুযোগ তৈরি করেও সেটিকে কার্যকর রূপ দিতে না পারাটাই দলের পরাজয়ের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, রক্ষণভাগে বাংলাদেশের লড়াই ছিল চোখে পড়ার মতো। ১৭ মিনিটে মেহেদী হাসানের দারুণ সেভ, ১৮ মিনিটে জামাল ভূঁইয়ার ব্লক, ৩৩ মিনিটে মেহেদীর আরও একটি সেভ ও তারিক কাজীর ব্লকে বাংলাদেশ বেশ কয়েকবার বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছে। দ্বিতীয়ার্ধেও ৪৭ ও ৫৬ মিনিটে গোলরক্ষক মেহেদী আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেছেন। পুরো ম্যাচে সিঙ্গাপুরের অন্তত ছয়টি নিশ্চিত গোলের সুযোগ রুখে দিয়ে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা ম্যাচটি দীর্ঘক্ষণ এক গোলের ব্যবধানে আটকে রেখেছিলেন। ম্যাচ পরিসংখ্যানেও বাংলাদেশের সমস্যাটা পরিষ্কারভাবে ফুঠে উঠেছে। দ্বিতীয়ার্ধেও একাধিক সুযোগ তৈরি করে ফরোয়ার্ডদের ভুলে ব্যর্থতার তালিকা লম্বা করেছে বাংলাদেশ।
রক্ষণের এই দৃঢ়তা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত গোল না পাওয়ার খেসারত দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর একটি গোল করতে সক্ষম হলেও বাংলাদেশ কোনো গোলই করতে পারেনি, যা শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। মাঠে চেষ্টা ও লড়াইয়ের ছাপ থাকলেও গোলমুখে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় ফল বাংলাদেশের অনুকূলে আসেনি। সান মারিনোর বিপক্ষে জয়টি এখন অনেকটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই সামনে আসছে, কারণ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে আবারও বাংলাদেশ আগের মতোই গোলমুখের শেষ কাজটি করতে হিমশিম খাচ্ছে। গোলমুখে এই জড়তা ও দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে বড় কোনো পরিবর্তন আসা কঠিন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থাৎ হারলেও প্রতিপক্ষের গোলমুখে পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা ছিল।





