১৩ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছেলে কোনো বিষয় নিয়ে আতঙ্কিত ছিলেন, বললেন তাহসিফের বাবা

Published: October 29, 2026, 6:15 pm

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরি কোনো একটি বিষয় নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে আতঙ্কিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার বাবা কেএম এনায়েতুল করিম। তবে ঠিক কী কারণে তিনি মানসিক চাপে বা আতঙ্কে ছিলেন, সে বিষয়ে পরিবার নিশ্চিত নয়। উত্তরখানের তুরাগ নদ থেকে সাবেক এই কর্মকর্তার নিথর দেহ উদ্ধারের পর তার নিখোঁজ হওয়া ও আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে স্বজনদের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘করবী’ ভবনে স্বজনদের সঙ্গে থাকতেন তাহসিফ। গত ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সারাদিন তিনি মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করেন এবং বাবার জন্যও নানা জিনিস কেনেন। তবে সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামের বন্ধুস্থানীয় এক ছোট ভাই বাসার নিচে এসে তাকে ডাকেন। মায়ের কাছে অল্প সময়ের মধ্যে ফিরে আসার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যান তাহসিফ, কিন্তু রাতে আর ঘরে ফেরেননি। ছেলের নিখোঁজ হওয়ার আগের ঘটনা বর্ণনা করে এনায়েতুল করিম বলেন, ‘যেদিনের ঘটনা ২৭ তারিখ সন্ধ্যার পরে, সারাদিন আমার মায়ের সঙ্গে ছিল। শপিং-টপিং করেছে, আমার জন্যও কিছু শপিং করেছে। তো ওই এলাকায় আমার ছেলে কখনোই যায় না।

নিখোঁজের রাতেও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা হয়েছিল বলে জানান তাহসিফের বাবা। তিনি উল্লেখ করেন, বারবার চেষ্টার পর রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফ তার মায়ের মোবাইলে একটি খুদে বার্তা পাঠান। মেসেজে তিনি লিখেন যে দ্রুতই বাসায় ফিরছেন। কিন্তু ওই বার্তার পর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং তার অবস্থানও চিহ্নিত করা যায়নি। তিনি আরও বলেন, ‘এর মধ্যে ওর মা অনেকবার চেষ্টা করেছে, কিন্তু ও ফেরে নাই এবং রাত ১টা ৩৫ মিনিটে সে মেসেজ দিয়েছে যে সে আসছে, আম্মু আমি আসছি—এরম গোছের একটা ব্যস্ত মেসেজ দিয়েছে। এরপর থেকে তার আর লোকেট করতে পারিনি।’। ওরা বলল যে না, এরকম কোনো ব্যাড নিউজ তো নাই। তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

পরদিন বুধবার দুপুর পর্যন্ত ছেলের সন্ধান না পেয়ে উত্তরা থানায় যান এনায়েতুল করিম। সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে ওই দিনই বৈকালে আনুমানিক সোয়া পাঁচটার দিকে উত্তরখান থানা-পুলিশ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং নিশ্চিত হওয়ার পর জানায় যে, উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে এক যুবকের ভাসমান দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা পরে তাহসিফের বলে শনাক্ত হয়। নাম, ছেলের নাম এগুলো নিশ্চিত হয়ে, এরপর আমাকে জানালেন যে মৃতদেহ পাওয়া গেছে নদীতে।’।

ঘটনার পেছনের রহস্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাহসিফের বাবা জানান, কিপাড়া হয়ে যে রাজাবাড়ী ঘাটে যেতে হয়, সেখানে তার ছেলে আগে কখনো যাননি। তবে তাহসিফ মাঝে মাঝে অজানা কোনো কারণে আতঙ্কিত বোধ করার কথা বলতেন। অন্যদিকে, ঘটনার দিন যে মোটরসাইকেলটি নিয়ে তাহসিফ বাসা থেকে বের হয়েছিলেন, মৃত্যুর পর সেটিরও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুঙ্খানুপুঙ্খ পুলিশি তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।