১২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা উত্তপ্ত বিতর্ক, সামলালেন খলিলুর রহমান

Published: October 28, 2026, 5:37 pm

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধ নিয়ে বার্ষিক বিতর্ক চলাকালে মঙ্গলবার এক নজিরবিহীন উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সময় ২৭ অক্টোবর এই বিতর্কে অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ কিউবার সমাজতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও ক্ষমতাসীনদের সম্পদ কুক্ষিগত করার কঠোর অভিযোগ আনলে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।

ওয়াল্টজের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিল্লাসহ দেশটির প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সভাকক্ষ উত্তাল করে তোলেন। তারা টেবিল চাপড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং চিৎকার করে আপত্তি জানান। পরিস্থিতি সামাল দিতে সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বারবার হাতুড়ি ঠুকে শান্তি রক্ষার আহ্বান জানান, কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন। ওয়াল্টজ তখন বলেন, ‘আমি আশা করি, জনাব সভাপতি, সবাই এখন প্রতিনিধিদলের বক্তব্য শুনছেন।

একপর্যায়ে ওয়াল্টজ তার বক্তব্যে কিউবার রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, হাভানায় কেউ এ ধরনের প্রশ্ন তোলার সাহস করলে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা ভাবা উচিত। এরপর দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। ওয়াল্টজ সাফ জানিয়ে দেন, এটি জাতিসংঘ, কোনো কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্র নয় এবং তাকে বা তার সহকর্মীদের চুপ করানো সম্ভব নয়। আপনারা আমাকে কিংবা আমার সহকর্মীদের চুপ করাতে পারবেন না।’। এবারের বিতর্কেও ওয়াশিংটনের অবরোধনীতির পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।

উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রদ্রিগেজ পারিল্লা সভাকক্ষের সামনের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় ওয়াল্টজ তাকে মঞ্চ থেকে দূরে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে কেউ তাকে ভয় দেখাতে পারবে না বলে চিৎকার করেন। এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে খলিলুর রহমান অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করতে বাধ্য হন।

পরে অধিবেশন পরিচালনার নিয়ম ব্যাখ্যা করে খলিলুর রহমান কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রক্রিয়াগত বিষয়ে কথা বলার সুযোগ করে দেন, তবে ওয়াল্টজের বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। নিজের আসনে ফিরে রদ্রিগেজ পারিল্লা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের অভিযোগকে ‘নির্লজ্জ মিথ্যাচার’ বলে তীব্র নিন্দা জানান।

ঘটনার পর রদ্রিগেজ পারিল্লা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাইক ওয়াল্টজের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, ওয়াল্টজ নিজেকে জাতিসংঘে রয়েছেন তা ভুলে গিয়ে সেনাবাহিনীর কোনো বিশেষ ইউনিটে আছেন বলে মনে করছেন। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার অযোগ্যতা ও অহংকারের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, মাইক ওয়াল্টজ যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনী ‘গ্রিন বেরেটস’-এর সাবেক সদস্য। অতীতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও তিনি বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। গত বছর ইয়েমেনে হুথিদের ওপর হামলা নিয়ে সিগন্যাল গ্রুপের ভুলবশত এক সাংবাদিককে যুক্ত করার ঘটনায়ও তার সম্পৃক্ততার খবর প্রকাশ পেয়েছিল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি বলেও উল্লেখ করেন। ওই গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ছিলেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত ওয়াল্টজের সাথে মার্কো রুবিওকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিউবার বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধের নিন্দা জানিয়ে আনা প্রস্তাবের ওপর বুধবার ভোট হওয়ার কথা রয়েছে, যার প্রেক্ষিতেই এই বিতর্ক উত্তপ্ত রূপ নিয়েছিল। একই সময়ে তিনি ঘোষণা করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করবেন।