
গত বুধবার রাত ২টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানামের উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করেছে। উপকূলভাগে আছড়ে পড়ার সময় ঝড়টি অত্যন্ত তীব্র ছিল, যার স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটে কাকিনাড়ায় স্থলভাগে আঘাত হানার পর ঘূর্ণিঝড়টি রাজ্যের অভ্যন্তরে অগ্রসর হয়। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ ঝড়টি দুর্বল হয়ে ভারি বৃষ্টিপাতে পরিণত হয়। কাঁকিনাড়া জেলায় সমুদ্রের পানি লোকালয়ে ঢুকে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ সময় ঝড়ের গতি অতি তীব্র ছিল, যার সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, দমকা হাওয়া ছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায় ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে ভারি বৃষ্টিতে পরিণত হয়। এই সময়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্ধ্র প্রদেশের কাঁকিনাড়া জেলায় সমুদ্রের জল রাস্তা পার করে এসে লোকের বাড়িতে পর্যন্ত ঢুকে পড়েছে।
ঝড়টির সম্ভাব্য গতিপথ ও প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কায় ওড়িশা রাজ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী সুরেশ পূজারী জানিয়েছেন, ওড়িশায় ৩১৩টি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভবতী নারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সমুদ্রে থাকা সব মাছ ধরার নৌকা উপকূলে ফিরে এসেছে। লোকজনকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য মোট দুই হাজার ৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ওড়িশার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোর দিকে ঘূর্ণিঝড়টির এগিয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস থাকায় রাজ্য জরুরি অভিযান কেন্দ্রে নিয়মিত পর্যালোচনা বৈঠক করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আইএমডির কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি এখন উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে মালকানগিরি পৌঁছাতে পারে। এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলোতেও আকাশ মেঘলা থাকাসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ব্যবস্থাটি এখন স্থির আছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টি ছত্তিসগড়ের দিকে অগ্রসর হওয়ায় বস্তারসহ বেশ কয়েকটি জেলায় বুধ ও বৃহস্পতিবার অতিভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ছত্তিসগড় সরকার সব জেলার প্রশাসনকে হাই অ্যালার্টে রাখার পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা ত্রাণ শিবির চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব কিছুটা স্থিতিশীল হলেও সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোতে সতর্কতা বহাল রয়েছে।





