৪ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টি-টোয়েন্টিতে ছক্কার রাজা কে, বাংলাদেশ কতটা পিছিয়ে?

Published: October 18, 2026, 12:10 pm

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছক্কা বা ওভার বাউন্ডারি মারার সামর্থ্য যে কোনো দলের শক্তির বড় মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়। মাঠের বাইরের দর্শকদের উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিতে এই ফরম্যাটে ছক্কার বিকল্প নেই। পরিসংখ্যান বলছে, এই বিভাগে বিশ্ব ক্রিকেটে একক আধিপত্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের। বর্তমান সময় অর্থাৎ ২০২৬ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিবীয়রা মোট ২০২৬টি ছক্কা হাঁকিয়ে তালিকার শীর্ষে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে। অথচ ২৬০টি ম্যাচ খেলে এই মাইলফলকে পৌঁছাতে পেরেছে তারা। তবে ওভার বাউন্ডারি নামে পরিচিত ছক্কার কদরটা টি–টুয়েন্টিতে একটু বেশিই। টি–টুয়েন্টিতে ছক্কার প্রসঙ্গ এলে সবার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটার কথাই মাথায় আসায় কথা বেশির ভাগের। ক্যারিবীয়ান দ্বীপ থেকে উঠে আসা একেকজন ব্যাটসম্যান কী সহজেই না বাউন্ডারি পার করিয়ে ফেলতে পারেন। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তখন ২০২৬ সাল। আর না থাকার অর্থ হচ্ছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০২৬ সাল শেষ করতে যাচ্ছে টি–টুয়েন্টিতে ২০২৬ ছক্কা নিয়ে। দুই দলের ব্যবধান মাত্র ৯ ছক্কার। মানে আর কোনো দল ২০০০ ছক্কার আশপাশেও নেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ ২৬০।

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারত খেলেছে ২৯৮টি ম্যাচ, যেখানে তাদের ছক্কার সংখ্যা ২০১৭। অর্থাৎ, ভারতের চেয়ে অনেক কম ম্যাচ খেলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছক্কায় এগিয়ে আছে। তালিকার পরের অবস্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড (১৫৮৫ ছক্কা) ও পাকিস্তান (১৫০৭ ছক্কা)। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ছক্কার সংখ্যাও ১৪০০-এর কোঠায়। সামগ্রিক পরিসংখ্যানে দুই হাজার ছক্কার মাইলফলক স্পর্শ করা দল আপাতত ওয়েস্ট ইন্ডিজই। পরিসংখ্যানও কিন্তু একই সাক্ষ্য দিচ্ছে। ভারতের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি ১৬.১৬ বলে। অস্ট্রেলিয়ার ১৭.৪৭, ইংল্যান্ডের ১৮.০০ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮.৪০ বল করে লেগেছে। নিউজিল্যান্ডের ক্ষেত্রে প্রতি ছক্কায় গড় বল ১৮.০৯।

ছক্কা মারার এই তালিকায় বাংলাদেশ অনেক পেছনে।

২২২টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের ব্যাটারদের মোট ছক্কা ৯৮৬টি। শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় হাজার ছক্কার নিচে থাকা একমাত্র দেশ বাংলাদেশ। এমনকি বাংলাদেশ থেকে চার বছর পরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি শুরু করা আফগানিস্তানও ১৬৮ ম্যাচ খেলে ১০১৪টি ছক্কা হাঁকিয়ে এগিয়ে আছে। বাংলাদেশ একটি ছক্কা মারতে গড়ে ২৫.৩৯ বল মোকাবিলা করে, যা পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কার (২৬.১২ বল) পরেই সবচেয়ে দুর্বল পরিসংখ্যান। অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ গড়ে প্রতি ১৩.৯৩ বলে একটি করে ছক্কা মারতে পারে। এমনকি দেখেশুনে খেলার টেস্ট ক্রিকেটেও। ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হলে দায় আপনার। সবাই অবশ্য চাহিদা অনুসারে মারতে পারে না। আর তা এতো বেশি যে, তাদের খেলা দেখতে নড়েচড়ে বসেন সবাই। অথচ আফগানিস্তান প্রথম আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি খেলেছে ২০১০ সালে, বাংলাদেশের চার বছর পর। অর্থাৎ, ১২০ বলের খেলায় বাংলাদেশ একটি করে ছক্কা পায় ২৫ বল পর। বল প্রতি ছক্কাতেই বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জটা স্পষ্ট হয়।

ব্যাটসম্যানদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও স্ট্রাইক রেটের ক্ষেত্রেও চিত্রটা হতাশাজনক। বাংলাদেশের ব্যাটারদের গড় স্ট্রাইক রেট ১১৭.২৫ এবং গড় রান ১৯.৩৪, যার কোনটিই শীর্ষ দশের তালিকায় নেই। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সেঞ্চুরির বিচারেও বাংলাদেশ বেশ পিছিয়ে। বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি পেয়েছেন মাত্র দুজন—তামিম ইকবাল ও পারভেজ হোসেন। অথচ আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদেরও তিনটি করে সেঞ্চুরি রয়েছে। তবে সফল হয়ে গেলে সাধারণত প্রশংসাই মেলে।

সেঞ্চুরির হিসেবে সবার চেয়ে অনেক এগিয়ে ভারত; তাদের ব্যাটাররা মোট ২৭টি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। এরপর নিউজিল্যান্ডের রয়েছে ১৪টি সেঞ্চুরি এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৯টি। ফিফটির পরিসংখ্যানেও ভারত ২৫৫টি হাফ-সেঞ্চুরি নিয়ে তালিকার শীর্ষে, এরপর যথাক্রমে পাকিস্তান (২০২টি) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১৫৮টি)। সামগ্রিক রান, স্ট্রাইক রেট এবং বড় শট খেলার সক্ষমতায় শীর্ষ দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান বেশ নাজুকই বলা যায়।