
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর এলাকায় অবস্থিত তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাস উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার দুপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি ৩ হাজার ৬০১ মিটার গভীর এই কূপটি খনন করেছে। এই প্রকল্পে মূসক ও আয়করসহ মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। চলতি বছরের ১৯ জুন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এটি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো। বর্তমানে কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এই কূপ থেকে ২০০ কোটি টাকা সমমূল্যের গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, ২০৩০ সাল নাগাদ দেশজুড়ে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এর অংশ হিসেবে বর্তমানে ২৭টি কূপ খননের কাজ চলমান। তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে বর্তমানে আরও তিনটি কূপ খননের প্রক্রিয়া চলছে, যা সম্পন্ন হলে জাতীয় গ্রিডে আরও ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানির জন্য আমদানিনির্ভরতা অর্থনীতির জন্য টেকসই নয়। তাই দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাপেক্স ও বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের মতো সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর তিতাসের এই ২৮ নম্বর কূপের খননকাজ শুরু হয়েছিল, যা চলতি বছরের ২৭ মে শেষ হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. জিয়াউল হক, অতিরিক্ত সচিব রফিকুল আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ এবং পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ। এছাড়া বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল জলিল প্রামাণিক এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় পর্যায়ে এসব ছোট ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্য দিয়ে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন বা ১ কোটি ২৫ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানির খরচ অনেক বেশি, যা অর্থনীতির জন্য টেকসই নয় মন্তব্য করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘এই সরকার দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আমরা স্বাবলম্বী হতে পারি।’।





