২৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তৈরি পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পথে সরকার

Published: October 7, 2026, 9:57 pm

শ্রমিক সংগঠনের দাবির প্রেক্ষিতে তৈরি পোশাকশিল্পে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ইঙ্গিত অনুযায়ী, চলতি মাসের মধ্যেই এই বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। গত সপ্তাহে সচিবালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম উপস্থিত ছিলেন।

মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার জানান, ইতোমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মালিক ও শ্রমিকপক্ষের কাছ থেকে প্রতিনিধি বা সদস্যদের নাম পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়কাল সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিরসনে মালিক, শ্রমিক ও সরকারি প্রতিনিধিদের কারিগরি কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে কোনো সিদ্ধান্ত না হলে বিষয়টি জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদে (টিসিসি) উত্থাপন করা হবে, এমনকি প্রয়োজনে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সংশোধিত শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের নভেম্বরে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয় এবং ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়। বর্তমানে শ্রমিকনেতারা আইন অনুযায়ী চলতি বছরই নতুন কাঠামো প্রত্যাশা করছেন, তবে মালিকপক্ষের মতে আইন পাসের পর থেকে এই তিন বছর গণনা করা উচিত। ২০২৩ সালের ওই কাঠামোতে ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ছিল পূর্বের তুলনায় ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি। তৎকালীন সাতটি গ্রেড কমিয়ে পাঁচটি গ্রেডে মজুরি কাঠামো বিন্যাস করা হয়েছিল।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে যৌক্তিক বলে মনে করেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তবে একই সঙ্গে তিনি কারখানাগুলোর সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, মূল্যস্ফীতির চাপে অনেক কারখানা ஏற்கனவே বন্ধ হয়ে গেছে, তাই নতুন মজুরি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সামগ্রিক পরিস্থিতির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।