
বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন। এই বিদায়ী মুহূর্তটি বিশ্ব ফুটবলের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারের বিদায়লগ্নে তার বন্ধু ও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের তারকা নেইমার জুনিয়র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন।
নেইমার লিখেছেন, যারা ফুটবল ভালোবাসেন, তারা এত বছর ধরে মেসিকে উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছেন। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক ফুটবল বৈরিতা এবং ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সেবার মারাকানায় ব্রাজিল হেরে গেলেও মেসির প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি জয়ের মুহূর্তটি ছিল একান্তই অনন্য। বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেছেন, জাতীয় দলের জার্সিতে এটি তোমার শেষ ম্যাচ, প্রতিটি সেকেন্ড তুমি উপভোগ করো।
৩৪ বছর বয়সী নেইমার আরও বলেন, মেসি ফুটবলের জন্য যে অবদান রেখেছেন, তার জন্য শুধু আর্জেন্টিনা নয়, পুরো বিশ্ব তার কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি মেসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, ফুটবলকে আরও বেশি ভালোবাসতে শেখানোর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। তোমার বিপক্ষে খেলাটা ছিল সম্মানের, আর তোমার সঙ্গে ইতিহাসের অংশ হতে পারাটা তার চেয়েও বড় সম্মানের।
ফুটবলের এই ‘ইতিহাসের অংশ’ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে বোঝাতে নেইমার ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনায় মেসি, নেইমার ও লুইস সুয়ারেজের গড়া সেই বিখ্যাত ত্রয়ী ‘এমএসএন’-এর কথা স্মরণ করেছেন। এই অপ্রতিরোধ্য আক্রমণভাগ বার্সেলোনাকে ২০১৫ সালের উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপসহ মোট ৯টি বড় শিরোপা উপহার দিয়েছিল। পরবর্তীতে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে (পিএসজি) তারা আরও দুই মৌসুম একসঙ্গে কাটিয়েছেন। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে মোট ২০৬টি ম্যাচে তারা একসঙ্গে লড়াই করেছেন এবং গড়েছেন অটুট বন্ধুত্বের বন্ধন।
আজ মাঠে মেসি শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে আলো ছড়িয়েছেন, আর গ্যালারিতে বা পর্দার ওপারে থেকে তাকে বিদায় জানিয়েছেন নেইমার। এই ব্রাজিলিয়ান তারকার শব্দগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছে, মেসির এই বিদায় কেবল একটি দেশের ফুটবল অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং এটি বিশ্ব ফুটবলের এক অনন্য ইতিহাসের ইতি।





