
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নারী আন্দোলনকারী ও শিক্ষার্থীদের হেনস্তা এবং মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে (ডিডিইউ মার্গ) আয়োজিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকার সমালোচনা করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হচ্ছে এবং নারীদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। এই ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর কর্তৃপক্ষ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত শুরু করে। এরপরই অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া চারজন হলেন রমন সাইনি (৫০), বিবেকানন্দ ওরফে বিবেক (৩২), কপিল কুমার (২৭) এবং রবীন্দ্র সিং ওরফে গোবিন্দ (৩৫)। তারা নিজেদের ‘হিন্দু রক্ষা দল’-এর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী অঞ্চল (এনসিআর) এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে পারেন এমন আশঙ্কা থেকে দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েনি, তবুও পুলিশের পক্ষ থেকে আইনি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এই কর্মসূচিতে ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনাও ঘটেছে।
ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন পুলিশ সদস্যের ভূমিকা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। ওই পুলিশ সদস্যের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়াও নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।





