
মহাবিশ্বের গামা-রে বার্স্টসহ নানা মহাজাগতিক বিস্ফোরণের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে ২০০৪ সালে উৎক্ষেপিত নাসার সুইফট স্পেস টেলিস্কোপ ২২ বছরের কর্মজীবন শেষে পৃথিবী বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ধ্বংস হয়ে গেছে। উৎক্ষেপণের প্রায় ২২ বছর পর অনিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসে বায়ুমণ্ডলে পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে নাসার স্পেস টেলিস্কোপ সুইফট।
৩ হাজার ২০০ পাউন্ড ওজনের এই টেলিস্কোপটি দীর্ঘ সময় মহাকাশে সফলভাবে কাজ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র সৌর কার্যকলাপের প্রভাবে এর কক্ষপথ দ্রুত নিচে নেমে আসতে শুরু করে। সবশেষে গত বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৯ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা অঞ্চলের ওপর দিয়ে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার পর ঘর্ষণের ফলে এর অধিকাংশ অংশ পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
টেলিস্কোপটিকে হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে গত আগস্টে নাসা প্রায় ৩ কোটি ডলার ব্যয়ে একটি বিশেষ উদ্ধারকারী মহাকাশযান পাঠিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল যানটির সহায়তায় টেলিস্কোপটিকে উচ্চতর কক্ষপথে সরিয়ে নেওয়া, তবে শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা সফল হয়নি। এ বিষয়ে পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং মিশন সংশ্লিষ্ট জন নৌসেক বলেন, উৎক্ষেপণের সময় থেকেই তারা জানতেন যে নিম্ন কক্ষপথে স্থাপন করা বস্তুর গন্তব্য শেষ পর্যন্ত এমন ধ্বংসাত্মক পরিণতিই হতে পারে। মহাকাশযানটির মাধ্যমে টেলিস্কোপটিকে উচ্চতর কক্ষপথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি।
নাসার প্রশাসক জারেড আইজ্যাকম্যান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মানবজাতির জ্ঞানচর্চায় এই মিশনটি এক অনন্য ভূমিকা রেখেছে। টেলিস্কোপটি তার কার্যকালে দুই হাজারের বেশি গামা-রে বার্স্ট এবং ১ হাজার ৪০০টি বিস্ফোরিত তারা শনাক্ত করার পাশাপাশি ধূমকেতু, গ্রহাণু ও কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য সরবরাহ করেছে। মহাজাগতিক যেকোনো আকস্মিক বিস্ফোরণের দিকে দ্রুত দিক পরিবর্তনের ক্ষমতার কারণে হাবল ও জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের মতো বড় গবেষণায় সুইফট একটি অপরিহার্য সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে।





