২১ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে পলাতকদের আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published: November 6, 2026, 6:05 pm

গণহত্যায় জড়িত থাকার পরও যারা কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি এবং গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছে, তাদের ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলাম বাবুনগর মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলাম বাবুনগর মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

রাজনৈতিক আদর্শ বা মতাদর্শের ভিন্নতা থাকাটা স্বাভাবিক বিষয় হলেও, দেশের মানুষের ওপর গণহত্যা চালানো ও দীর্ঘ সময় ধরে আলেম-ওলামাদের রক্ত ঝরানোর মতো অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো আপস নেই বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী সরকারের হাত থেকে মুক্তি পেতে দেশবাসীকে দীর্ঘ সংগ্রাম করতে হয়েছে। শাপলা চত্বরের সেই ট্র্যাজেডিসহ বিগত বছরগুলোর অসংখ্য ত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই মুক্ত বাংলাদেশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতে পারে, আদর্শের ভিন্নতা থাকতে পারে; কিন্তু একটি বিষয়ে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ- যারা এ দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, ম্যাসাকার করেছে, দীর্ঘ কয়েক বছর ধ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ২৩ বছর লেগেছে। শাপলা চত্বরে কত মানুষ শহীদ হয়েছেন, এখনো তাদের সবার নাম ও কবরের ঠিকানা আমরা জানি না। তিনি বলেন, তারা দেশের মানুষের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করছেন। জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা অনুযায়ী দীর্ঘ আলোচনার মধ্য দিয়ে যে জুলাই সনদ প্রণীত হয়েছে, তা আমরা বাস্তবায়ন করবই। আমরা কখনো জাতির মধ্যে বিভেদ দেখতে চাই না।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। এছাড়া গত ১৬-১৭ বছরে প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৭ হাজার মানুষ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নিজেও এই গুমের শিকার হয়েছিলেন, তবে আল্লাহর রহমতে বেঁচে ফিরেছেন। এ সময় তিনি আন্দোলনে ভুক্তভোগী লাখ লাখ মানুষের হামলা-মামলার বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেন। রাব্বুল আলামিন আমার হায়াত রেখেছেন। প্রায় ৭ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে হত্যার শিকার ও নির্যাতিত হয়েছেন।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল, যা পুনরায় সংবিধানে ফিরিয়ে আনা হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মতো মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা স্থাপন ও সংবিধানের প্রস্তাবনায় বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম যুক্ত করার সেই আদর্শিক পথ অনুসরণ করা হবে।

ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি পূর্ণ অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ দেশের সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ ও বিভেদহীন বাংলাদেশ গঠনই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। ধর্মের অপব্যবহার করে বিভাজন সৃষ্টিকারীদের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, বিভ্রান্তিমূলক রাজনীতি পরিহার করে গঠনমূলক সমালোচনা করা প্রয়োজন। তিনি জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং ইসলামী মূল্যবোধ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। স্বাধীনতার আগে ও পরে বিভ্রান্তিমূলক রাজনীতির মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। এর পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধের সব বিষয় সংবিধানে ধারণ করব ইনশাআল্লাহ।

মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, সরওয়ার আলমগীর ও হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সরকারের প্রতি অসহযোগিতা না করে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।