১৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ: সাভার ও গাজীপুরে ৮০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা

Published: November 1, 2026, 2:51 pm

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করাসহ বিভিন্ন যৌক্তিক দাবিতে সাভার ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে আজ রোববার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। শ্রমিকদের লাগাতার বিক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে দুই জেলার অন্তত ৮০টি পোশাক কারখানায় সাময়িকভাবে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও কারখানার সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশ বক্সে আগুন। এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাভারের অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দিনের শুরুতে অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। তবে সকাল পৌনে ১১টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় শারমিন গ্রুপের কারখানার সামনে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকেরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশ তাদের সড়কের একপাশে সরানোর চেষ্টা করলে শ্রমিকেরা সেখানেই অবস্থান নিয়ে অন্যান্য কারখানার সহকর্মীদের যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। আজ সকালের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও দুপুর থেকে সাভারে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হতে থাকে। এ সময় তাঁরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন ধরণের স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে শিল্প পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরে সড়কের একপাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান। শ্রমিকেরা বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে আছেন।

এ পরিস্থিতির প্রভাবে হা-মীম গ্রুপ, নিউএইজ গ্রুপ, আল-মুসলিম এ্যপারেলস ও ট্রাউজার লাইন লিমিটেডসহ আশপাশের অনেক কারখানায় কাজ বন্ধ রাখা হয়। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন জানান, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট আলোচনা না হওয়ায় কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। সকাল ১০টার দিকে পুলিশের মাইকিংয়ে শান্তির বার্তা দেওয়া হলেও শ্রমিকদের মধ্যে দাবির বিষয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।

এদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় শ্রমিক আন্দোলনের তীব্রতা আরও বেড়েছে। আজ সকাল থেকে সফিপুর বাজার সংলগ্ন মহাসড়কে করনী নিট কম্পোজিট ও নিট এশিয়াসহ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন। একই সময়ে ট্রপিক্যাল পোশাক কারখানার একটি ঝুটের গোডাউনেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে যেতে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে অন্তত ৩০টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ অত্র শিল্প এলাকায় সর্বদা আপনাদের পাশে থেকে শান্তি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সেবা প্রদান করে আসছে।