১৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়ালো কাতারি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সনদ’

Published: November 1, 2026, 2:18 pm

দুই ভাইয়ের খুনসুটি, তীব্র প্রতিযোগিতা এবং অটুট ভালোবাসার গল্প নিয়ে তৈরি কাতারি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সনদ’ (SANAD) আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। প্রখ্যাত কাতারি নির্মাতা নূর আল-নাসরের পরিচালনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি বিশ্বের ৫০টি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে এবং এ পর্যন্ত ২৫টি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতে নিয়েছে।

ছবিটি লন্ডনের ‘লন্ডন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’ ও সুইডেনের ‘সুইডেন ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’-এ সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের খেতাব জিতেছে। এছাড়া ইতালির ‘মিলানো ইন্ডি মুভি অ্যাওয়ার্ডস’-এ এটি সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার লাভ করে। ছবিটি সারায়েভো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া কাতারের জনপ্রিয় আজয়াল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও ছবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছিল।

আরবি শব্দ ‘সনদ’-এর আভিধানিক অর্থ হলো আস্থার জায়গা বা ভরসা। আলী ও জসিম নামের দুই ভাইকে কেন্দ্র করে ছবির মূল কাহিনি আবর্তিত হয়েছে। একটি সাধারণ কৌতুক বা প্র্যাংক কীভাবে ধীরে ধীরে প্রতিশোধের খেলায় রূপ নেয় এবং শেষপর্যন্ত তাদের রক্তের সম্পর্ককে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে ঠেলে দেয়, তা-ই এখানে দেখানো হয়েছে। চলচ্চিত্রটি হাস্যরস ও আবেগের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছে যে সব দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে বিপদের সময় ভাইয়ের নিরাপত্তায় এগিয়ে আসাই মূল দায়িত্ব।

পরিচালক নূর আল-নাসর বলেন, “আমি সবসময় সাধারণ মানুষের জীবনের গল্পগুলোকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখতে পছন্দ করি। ‘সনদ’-এর মাধ্যমে আমি ভাই-বোনের পারস্পরিক রাগ-অনুরাগ, প্রতিযোগিতা এবং একে অপরকে রক্ষা করার সুপ্ত মানসিকতাটি ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি।” তিনি এই সাফল্যের কৃতিত্ব পুরো টিমকে দিয়েছেন। বিশেষ করে দক্ষ অভিনয়শিল্পী, ক্রু সদস্য এবং দোহা ফিল্ম ইনস্টিটিউট (DFI)-এর সহযোগিতার কারণেই এই গল্পটি বিশ্বজুড়ে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাতে পেরেছে বলে তিনি মনে করেন। ‘সনদ’-এর এই অনন্য অর্জন কাতারি চলচ্চিত্র শিল্পকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।