
বাংলাদেশের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাতে বিনিয়োগ এবং সহযোগিতার পরিধি বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিলিকন ভ্যালির শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, মার্কিন সফরের সময় গুগল, মেটা, সিসকো, এনভিডিয়া ও অ্যাপলের মতো প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বের সাথে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনার ধারাবাহিকতায় একটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে বাংলাদেশে অফিস স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ডেটা সেন্টার স্থাপন এবং প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়নে এই প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী। পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও তারা বিশেষ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো একটি প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার মাধ্যমে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির মাইলফলক অর্জন করা। এই লক্ষ্য পূরণে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন শামা ওবায়েদ। তিনি জানান, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি দেশে ডেটা সেন্টারসহ বড় আকারের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরির ওপর সরকার জোর দিচ্ছে। তবে এ ধরনের যেকোনো বড় প্রকল্প গ্রহণের আগে অবকাঠামোগত সক্ষমতা, পরিবেশ, জলবায়ু প্রভাব, অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং জনস্বার্থের মতো বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণা ও যাচাই-বাছাই করা হবে।
একই সাথে বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সাথে দেখছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পাশাপাশি দেশের শিল্প, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি খাতের নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম সচল রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। জনচাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রযুক্তিগত খাতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।





