১৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্মার্টফোন হারিয়ে যাওয়ার আগেই তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন যেভাবে

Published: September 30, 2026, 11:11 am

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ছাড়া জীবনের অধিকাংশ কাজ কল্পনা করা কঠিন। ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে শুরু করে ব্যাংকিং লেনদেন—সবই এখন মুঠোফোনে সীমাবদ্ধ। তাই হঠাৎ ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে ফোন খোয়া যাওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় কিছু সুরক্ষা সেটিংস ও সতর্কতা অবলম্বন করলে তথ্যের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব।

১. ‘ফাইন্ড মাই’ বা ‘ফাইন্ড হাব’ চালু রাখা: স্মার্টফোনের অবস্থান শনাক্ত করতে আইফোনের ‘ফাইন্ড মাই’ এবং অ্যান্ড্রয়েডের ‘ফাইন্ড হাব’ ফিচার দুটি অপরিহার্য। এগুলো নিয়মিত চালু আছে কি না তা সেটিংসে গিয়ে পরীক্ষা করুন। এর মাধ্যমে হারানো ফোন ট্র্যাক করা, দূর থেকে লক করা কিংবা প্রয়োজনে তথ্য মুছে ফেলার সুযোগ থাকে।

২. সহজ পিন কোড বর্জন করা: অনেকেই ফেস আইডি বা ফিঙ্গারপ্রিন্টের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ফোনের পাসকোড বা পিন নিয়ে উদাসীন থাকেন। অথচ এটিই আপনার ফোনের প্রধান সুরক্ষা প্রাচীর। ১২৩৪৫৬, ০০০০০০ বা জন্মতারিখের মতো সহজ পিন ব্যবহারের অভ্যাস বাদ দিন। পাবলিক প্লেসে পিন দেওয়ার সময়ও সতর্ক থাকা জরুরি। এছাড়া আইফোন ব্যবহারকারীরা ‘স্টোলেন ডিভাইস প্রটেকশন’ ফিচারটি চালু রাখতে পারেন, যা ফোন ও পাসকোড দুইয়ের ওপর কারও নিয়ন্ত্রণ চলে গেলেও বাড়তি নিরাপত্তা দেয়।

৩. লক স্ক্রিনে তথ্য গোপন রাখা: ফোন লক থাকলেও অনেক সময় নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ওটিপি, পাসওয়ার্ড রিকভারি কোড বা ব্যক্তিগত বার্তার সংবেদনশীল তথ্য স্ক্রিনে ভেসে ওঠে। লক স্ক্রিনে কোন ধরনের তথ্য দেখা যাবে, তা নোটিফিকেশন সেটিংস থেকে নিয়ন্ত্রণ করুন যাতে অপরিচিত কেউ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেখার সুযোগ না পায়।

৪. জরুরি অ্যাপগুলো আলাদাভাবে সুরক্ষিত করা: ব্যাংকিং বা এমএফএস অ্যাপ ছাড়াও ই-মেইল, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার এবং অথেনটিকেটর অ্যাপের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলোর মাধ্যমেই অন্যান্য অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের সুযোগ থাকে। ফোনের অ্যাপ লক বা প্রাইভেট স্পেস সুবিধা ব্যবহার করে এসব গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ সুরক্ষিত রাখুন।

৫. সিম কার্ডের সুরক্ষা নিশ্চিত করা: আপনার ফোন নম্বরটি ওটিপি বা অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের কাজে ব্যবহৃত হয়। ফোন হারালে দ্রুত মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিম বন্ধ করা বা নতুন সিম নেওয়ার উপায়গুলো আগে থেকেই জেনে রাখুন। নিরাপত্তার খাতিরে সিম পিন ব্যবহার করতে পারেন, তবে পিন ভুলে গেলে পিইউকে কোড ব্যবহারের নিয়মটিও জেনে রাখা জরুরি।

৬. নিয়মিত তথ্যের ব্যাকআপ রাখা: ফোন হারানোর পর নতুন ডিভাইস কেনা সম্ভব হলেও ভেতরে থাকা তথ্য ফিরে পাওয়া কঠিন। তাই নিয়মিত ক্লাউড ব্যাকআপ সচল রাখুন এবং ছবি, পরিচিতি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঠিকভাবে ব্যাকআপ হচ্ছে কি না তা মাঝেমধ্যে যাচাই করুন।

৭. ফোন ছাড়াই অ্যাকাউন্ট রিকভারির ব্যবস্থা: অনেক সময় অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয় তথ্য শুধু চুরি হওয়া ফোনেই থাকে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। তাই গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের রিকভারি কোডগুলো ফোনের বাইরে কোনো নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করুন। ফোনের ভেতরে স্ক্রিনশট হিসেবে এগুলো রাখা ঝুঁকিপূর্ণ।

৮. আইএমইআই (IMEI) নম্বর সংরক্ষণ করা: ফোনের প্রতিটি ডিভাইসের আলাদা আইএমইআই নম্বর থাকে। ফোন হারিয়ে গেলে দ্রুত শনাক্তকরণের জন্য ফোনের বাক্স বা চালানের কাগজ থেকে এই নম্বরটি খুঁজে নিয়ে ফোনের বাইরে কোথাও লিখে রাখুন। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা গুগলের ফাইন্ড হাব থেকেও এটি পেতে পারেন।

৯. আর্থিক সেবাদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রস্তুতি: স্মার্টফোন এখন ডিজিটাল মানিব্যাগ। তাই ফোনে থাকা ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপগুলোর গ্রাহক সেবা নম্বর ও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার প্রক্রিয়া আগে থেকেই জেনে রাখা জরুরি। ফোনের নোটস অ্যাপে কখনো ব্যাংকের পাসওয়ার্ড বা কার্ডের তথ্য লিখে রাখবেন না, এতে বিপদ আরও বাড়তে পারে।