১১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে উৎসবমুখর সংবর্ধনা

Published: September 25, 2026, 4:31 pm

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে আজ শুক্রবার সকালে শিখো– আয়োজনে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে সারা দেশের ৬৪ জেলায় আয়োজিত এই ধারাবাহিক সংবর্ধনার অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর এই অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বন্ধুসভার সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা সমবেতভাবে জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ মেলান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও কৃতী শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকেই কলেজ চত্বর ছিল শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর। অনেক শিক্ষার্থীকে এক্সপেরিয়েন্স জোনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এবং ফটো ফ্রেমে ছবি তুলতে দেখা যায়।

অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে সরাইলের শাহাজাদাপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে। সে বলে, ‘আমার মা-বাবা নিরক্ষর, কিন্তু আমি যখন রাতে পড়াশোনা করতাম, তাঁরা পাশে বসে থাকতেন। আমি আজ এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁদের সম্মান জানাচ্ছি। এই আয়োজন আমাদের আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে।’ অনুষ্ঠানে নবীনগর ইচ্ছামতী উচ্চবিদ্যালয় থেকে আসা শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম জানায়, সে সকাল আটটায় রওনা হয়ে ১০টায় অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছেছে। এছাড়াও গভ. মডেল গার্লস হাইস্কুল থেকে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত তাশফিয়া তাসনিম, সৈয়দা কানিজ জাহান, ইসরাত জাহান, লামিয়া আমান্তু রহমান, মহুনা রায় ও তানহা আক্তারসহ অনেক বন্ধু একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেয়। তাশফিয়া তাসনিমের ভাষ্যমতে, শিক্ষার্থীদের জন্য এমন উৎসব এর আগে তারা দেখেনি। তাঁদের সেই সক্ষমতা ছিল না যে আমাকে পড়িয়ে পড়া আদায় করবেন। এই অনুষ্ঠান শুধু সংবর্ধনা নয়, আমাদের দায়িত্বশীল করে দিয়েছে। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় সরাইল উপজেলার শাহাজাদাপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। রাষ্ট্রের প্রতিও তাঁদের দায়িত্ব রয়েছে। জেলা শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের নবীনগর উপজেলা থেকে সকাল আটটায় খালার সঙ্গে অনুষ্ঠানের উদ্দেশে রওনা হয় নবীনগর ইচ্ছামতী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম। আমি মাঝেমধ্যে পত্রিকা পড়ি।’। নিজের সাফল্যের পেছনে মা–বাবা ও শিক্ষকদের ভূমিকাকে স্মরণ করে কৃতী শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলে, জিপিএ-৫ পাওয়াই শেষ অধ্যায় নয়; ভালো মানুষ হতে হবে। বাবা টুটুল পাল চৌধুরীর সঙ্গে অনুষ্ঠানে আসে সূর্যমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া অনিন্দিতা পাল চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিজানুর রহমান শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য ধরে রাখার তাগিদ দিয়ে বলেন, এইচএসসিতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। ইউনাইটেড কলেজের শিক্ষক শাহীন মৃধা বলেন, স্বপ্নহীন জীবন ডানা ভাঙা পাখির মতো, তাই লক্ষ্য স্থির করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

হেড অব কালচারাল এন্টারটেইনমেন্ট কবির বকুল শিক্ষার্থীদের মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থবিদ্যার বিরুদ্ধে শপথ পড়ান। তিনি বলেন, ‘এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নয়। পড়াশোনার পাশাপাশি ভালো মানুষ হতে হবে এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বিকাশ। এ ছাড়া কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও বন্ধুসভা আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে বিভিন্ন স্টলে শিক্ষার্থীদের ভিড় দেখা যায়। কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে বিজয়ী ১০ জন শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। শিক্ষার্থীদের কবিতা আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। অভিভাবকদের অনেকেই এই শিক্ষামূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং সন্তানের সাফল্যের সাক্ষী হতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।