২২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যানারে কটু মন্তব্যের অভিযোগ: প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী বহিষ্কৃত

Published: November 7, 2026, 7:06 pm

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) একটি ব্যানারের ওপর আপত্তিকর মন্তব্য লেখার দায়ে দুই ছাত্রীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর সংঘটিত এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। শাস্তিস্বরূপ শুধু বহিষ্কারই নয়, বরং ওই দুই ছাত্রীর জন্য প্রেসিডেন্সিতে ভবিষ্যতে যেকোনো ডিগ্রি কোর্সে ভর্তির পথও চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী এবং অন্যজন সদ্য স্নাতকোত্তর পাস করে পোস্ট-স্টুডেন্টশিপের কাজে যুক্ত ছিলেন।

ঘটনার পরদিন ১৪ অক্টোবর এবিভিপির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে পাঁচ সদস্যের একটি অধ্যাপক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যাদের ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশ জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ২৮ অক্টোবর কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং ৩ নভেম্বর তারা প্রতিবেদন জমা দেয়। সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পর্যালোচনার পর ৫ নভেম্বর কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে দুই ছাত্রীর বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়। যে ব্যানারে মন্তব্যটি লেখা হয়েছিল, তাতে স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ছিল। সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য শোনার পর কমিটি ‘কটু’ কথা লেখার সত্যতা যাচাই করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবজ্যোতি কোনার জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্সি তার একাডেমিক চর্চা ও বিতর্কের ঐতিহ্য রক্ষার জন্য পরিচিত। তাই কোনো বিশেষ মতাদর্শ বা সংগঠনকে উদ্দেশ্য করে অশালীন গালিগালাজ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এদিকে, এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এসএফআই, আরএসএফ, আইসা ও এআইডিএসও-র মতো ছাত্রসংগঠনগুলো যৌথ বিবৃতিতে বিকৃতির নিন্দা জানালেও দুই ছাত্রীর শিক্ষাজীবন এভাবে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, শাস্তির বিধান থাকলেও বর্তমান পদক্ষেপটি অত্যন্ত প্রতিশোধমূলক ও মাত্রাতিরিক্ত। কারণ, কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠান ভারতের একটি প্রধান উদারমনস্ক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে, এবিভিপির দাবি, স্বামী বিবেকানন্দের মতো মহান ব্যক্তিত্বকে তাঁর নিজ শিক্ষাঙ্গনেই অপমান করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তারা এই ঘটনার জন্য বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর মানসিকতা ও উসকানিতে দায়বদ্ধ থাকার অভিযোগ তুলেছে। ২০০ বছরের বেশি পুরোনো এই প্রতিষ্ঠানটি ঐতিহাসিকভাবে উদারমনস্কতার জন্য পরিচিত হওয়ায়, এই বহিষ্কারের ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে এই শাস্তিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ বলে মন্তব্য করছেন। ২০০ বছরের বেশি পুরোনো এই প্রতিষ্ঠান থেকে দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, বিশ্বের খ্যাতনামা অনেক মানুষ পাস করে বেরিয়েছেন। বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতৃত্ব দাবি করেছে, যেকোনো অন্যায় কাজের সাজা হতেই পারে। বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।