
চীনে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পেট্রোলের দাম কিছুটা বেড়েছে। চীনের অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক হিসেবে বিবেচিত সাংহাই ফিউচার্সের দাম গত বুধবার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। একপর্যায়ে সেখানে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১৩০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে শুক্রবার সেই দাম কিছুটা হ্রাস পেয়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১১৩ ডলারে নেমে এসেছে। তা সত্ত্বেও বাজারে তেলের দাম এখনো অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
সরবরাহ সংকট ও আন্তর্জাতিক প্রভাব
আন্তর্জাতিক বাজারে এই অস্থিরতার অন্যতম প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ব্যাহত হওয়া। সংঘাত শুরু হওয়ার আগে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দিয়ে প্রতিদিন দুই কোটি ২০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হতো। বর্তমানে সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় তা কমে প্রতিদিন মাত্র প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনাও বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। তবে পাইপলাইনটি মেরামত করতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে না, বরং কয়েক দিনের মধ্যেই তা ঠিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চীনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি
তেলের দাম বাড়ার পেছনে চীনের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ কিছু কারণও রয়েছে। দেশটির তেল শোধনাগারগুলো পুনরায় বাজারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশ্ববাজারে বর্তমানে ডিজেলের তীব্র ঘাটতির কারণে এর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চীনা শোধনাগারগুলোর কাছে এখন ডিজেল উৎপাদন করা অত্যন্ত লাভজনক হয়ে উঠেছে এবং তারা এই জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে বিশেষ জোর দিচ্ছে।





