৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত: কূটনীতির আশার মাঝেও ট্রাম্পের কঠোর হুমকি

Published: September 24, 2026, 12:29 am

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর সংঘাত নিরসনের এক নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন। এই বৈঠককে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘বেশ ফলপ্রসূ’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে ইরানের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি; বরং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করা হয়েছে। মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে এবং মধ্যস্থতাকারীরা তাঁদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

কূটনৈতিক তৎপরতার এই বাতাবরণের মধ্যেই সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী ভাষণে ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরানের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি করা হবে কি না, যার মাধ্যমে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, নাকি ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে—এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। এর আগে ভাষণে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিবাদে ইরানের প্রতিনিধিদল সভাকক্ষ ত্যাগ করে। একইভাবে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যখন ভাষণ শুরু করেন, তখন মার্কিন প্রতিনিধিদল সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। নিজের ভাষণে পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করেন যে, ইরান কখনো নতি স্বীকার করবে না। তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিরক্ষার স্বার্থেই আমাদের সামরিক শক্তি গড়ে তোলা হয়েছে। নিজেদের দেশ রক্ষায় কারও অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। তবে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাতের ইতি টানা সম্ভব।’

এর আগে গত ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছিল। ৪০ দিন মেয়াদী এই প্রাথমিক চুক্তির লক্ষ্য ছিল আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো। তবে দ্রুতই সেই চুক্তি ভেস্তে যায় এবং উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা শুরু করে। এই পটভূমিতে জুন মাসের পর গতকালই প্রথম দুই পক্ষের মধ্যে কোনো ধরনের যোগাযোগ স্থাপিত হলো।

ট্রাম্পের হুমকির কড়া সমালোচনা করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। গতকাল এক বিবৃতিতে তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এসব বক্তব্য ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি তাদের ‘কৌশলগত হতাশা’ ও ব্যর্থতার প্রমাণ। ইরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালালে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। বর্তমানে উভয় পক্ষই উত্তেজনার পারদ নিয়ন্ত্রণ এবং আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিপরীতমুখী অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইরানের দিক থেকেও একই ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুধু একজন প্রতিনিধি তাঁর আসনে বসে ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেখা যাক কী হয়।…তাঁরা কিছুদিন ধরে মধ্যস্থতা করে আসছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যে আরও বিস্তারিত আলাপ–আলোচনা শেষে তাদের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতকাল এক বিবৃতিতে ইরানের জেনারেল স্টাফ বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মৃত্যু হয়েছে।…এসব দাম্ভিক উচ্চারণ ক্ষমতার প্রকাশ নয়; বরং কৌশলগত হতাশার বহিঃপ্রকাশ।