৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে ইসরাইলকে আঞ্চলিক হুমকি ও যুদ্ধাপরাধী বললেন জর্ডানের রাজা

Published: September 23, 2026, 9:19 pm

ফিলিস্তিনের গাজা ও পশ্চিম তীরে চলমান ইসরাইলি আগ্রাসনকে বিশ্বশান্তির জন্য চরম হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি ইসরাইলকে আঞ্চলিক হুমকি ও যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিহিত করে বিশ্বনেতাদের কঠোর বার্তা দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই চলমান মানবিক সংকট ও অস্থিতিশীলতা কেবল এই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।

জর্ডানের রাজা উল্লেখ করেন, বিশ্ব আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে প্রতিনিয়ত নতুন ট্র্যাজেডি তৈরি হচ্ছে। ইরান, লেবানন, ইয়েমেন কিংবা সুদানের যুদ্ধ পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে গোটা বিশ্বের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে। এ ধরনের অস্থিতিশীলতার ফলে মুম্বাই থেকে মাদ্রিদ, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বলেন, জাতিসংঘের এই মঞ্চে তিনি কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের তাগিদ দিয়ে আসছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মূল সমস্যার সমাধান না করে তা কেবল সাময়িকভাবে চেপে রাখার চেষ্টা করেছে। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ঘোষিত যুদ্ধবিরতির প্রথম ৩০০ দিনের মধ্যেই গাজায় অন্তত ৩০০ ফিলিস্তিনি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। ইসরাইল সেখানে লাগাতার বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করছে এবং সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানিয়ে গাজার বাসিন্দাদের এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ডে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এটিকে তিনি ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব মুছে দেওয়ার এবং গাজায় নতুন ভৌগোলিক বাস্তবতা তৈরির ইসরাইলি ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেন।

পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও জর্ডানের বাদশাহ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, ফিলিস্তিনিদের জমি দখল ও উচ্ছেদ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ইসরাইলি বাহিনী এই সহিংসতায় সরাসরি মদদ দিচ্ছে অথবা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এমনকি আহতদের উদ্ধার করতে আসা অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে বাধা দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করার মতো ঘটনাও ঘটছে। গাজা ও পশ্চিম তীরকে ফিলিস্তিনিদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে নস্যাৎ করছে।

ইসরাইলের শান্তি ও সমঝোতাবিমুখ নীতির সমালোচনা করে রাজা আবদুল্লাহ বলেন, ২০০২ সালে সৌদি আরবের উদ্যোগে আরব শান্তি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল। এই প্রস্তাবের আওতায় শান্তি ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিনিময়ে ৫৭টি আরব ও মুসলিম দেশের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সুযোগ ছিল। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই প্রস্তাব বহাল থাকলেও শান্তির অংশীদারের অভাবে নয়, বরং ইসরাইলি সরকারের অনিচ্ছার কারণেই তা বাস্তবায়িত হয়নি।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে জর্ডানের রাজা বলেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ, সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিকভাবে একঘরে করার মতো নানাবিধ কার্যকর পথ খোলা রয়েছে। কিন্তু ইসরাইলের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের প্রস্তাবগুলো শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরাইল ধাপে ধাপে পরীক্ষা করছে যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের কত বড় অপরাধ মেনে নিতে পারে। সিরিয়ার পরিস্থিতিকে এ ক্ষেত্রে একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

পরিশেষে জর্ডানের বাদশাহ পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ন্যায্য শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ থেকে তার দেশ কখনো বিচ্যুত হবে না। ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা এবং জেরুজালেমের মুসলিম ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর ঐতিহাসিক মর্যাদা বজায় রাখতে জর্ডান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, গাজা, সুদান কিংবা ইউক্রেন—যেখানেই যুদ্ধ হোক না কেন, বিশ্বের মনোযোগ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীতিগত অবস্থান বদলে যাওয়া উচিত নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাজা আবদুল্লাহ বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে গাজার ফিলিস্তিনি জনগণ উপত্যকার মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি ২০০২ সালের সৌদি আরবের নেতৃত্বে প্রস্তাবিত আরব শান্তি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইসরাইল ভয়ংকর মাত্রার যুদ্ধাপরাধ করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত মানবিক সংকটকে আরো গভীর করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোন সংঘাত নিয়ে বিশ্ব দীর্ঘ সময় কূটনৈতিক তৎপরতা চালাবে, কোন যুদ্ধবিরতি ক্যামেরা সরে যাওয়ার পরও টিকে থাকবে এবং মানবিক দুর্ভোগ কখন অসহনীয় থেকে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হবে—এসবের ওপর আন্তর্জাতিক মনোযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংঘাতের মূল কারণ সমাধানের পরিবর্তে সেটিকে শুধু ‘পরিচালনা’ করার পথ বেছে নিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর ফলে দীর্ঘদিনের দখলদারত্বের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি প্রশ্ন তোলেন, আন্তর্জাতিক আইন যদি কয়েক দশক ধরে উপেক্ষা করা যায়, তাহলে সেই আইনের মূল্য কী।