
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাগীগঞ্জ এলাকায় বুধবার ভোর ৫টার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে যাত্রীবাহী একটি বাস। এতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল মিলিয়ে মোট চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। দুর্ঘটনায় বাসের অন্তত ১৮ যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় বাসটিতে থাকা তিন নারীসহ অন্তত ১৮ জন আহত হন।
নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার মোজাফফর হোসেন, তার বোন গোলাপী, একই উপজেলার আলমগীর হোসেন (৪৫) এবং বাসের হেলপার আপেল। ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীগামী ‘খান এন্টারপ্রাইজ’ পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মাটিবোঝাই ডাম্প ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দিলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, ফজরের নামাজের পর বৈরাগীগঞ্জ শাহ আমানত পেট্রল পাম্পের উল্টো দিকের মাজার মসজিদের সামনে ট্রাকটি দাঁড়িয়ে ছিল। দ্রুতগতির বাসটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই একজন যাত্রী মারা যান এবং বাকি তিনজন হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। রংপুরে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় নিহত বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
বড়দরগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম উদ্দিন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাকটির সংঘর্ষের পর আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আহতরা।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সরদার আব্দুল জলিল জানান, মিঠাপুকুরের ওই দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনদের কাছে নিহতদের মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।





