১৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহজালাল বিমানবন্দরে হট্টগোল, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা

Published: October 2, 2026, 1:07 pm

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় এই মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে এগারোটার দিকে মদিনা থেকে আসা বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের চাপের মুখে লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সংকট দেখা দেয়। এ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ঢাকা-৫ আসনের এমপি মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টার সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে নির্বাহী পরিচালকের দিকে তেড়ে যান এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। সে সময় তিনি প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, “আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা”, “ঘাড় ধরে বের করে দিবো”। এ ছাড়া তিনি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী নিয়েও অশালীন মন্তব্য করেন বলে এজাহারে অভিযোগ তোলা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা একটি ফ্লাইটের (বিজি-৩৩৮) যাত্রীদের ব্যাপক চাপের কারণে ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সংকট দেখা দেয়। সেখানে দেখা যায়, জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে উদ্দেশ করে বলছেন, “ঘাড় ধরে বের করে দেব।

ঘটনার সময় আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা সংরক্ষিত কেপিআই এলাকায় ভিডিও ধারণ শুরু করলে নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাতে বাধা দেন। এতে আখতারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। পাশাপাশি জমজমের পানির বোতল ছুঁড়ে ফেলা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হবে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় সরকারি কাজে বাধা, আঘাত, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, ইচ্ছাকৃত অপমান ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা গেছে, “ঘাড় ধরে বের করে দেব। আপনারা কাজ করেন না, কিছু করেন না, তদবির করে পোস্ট নেন। মাইর খাইতে চান?”

প্রসঙ্গত, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিএনপি থেকে পাঁচবার বহিষ্কৃত হওয়ার পর আখতারুজ্জামান জামায়াতে যোগ দেন। তার এই কর্মকাণ্ড বিমানবন্দর এলাকার স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বারবার দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার কারণে তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়াও হয়েছিল।