২৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে নিজের কঠোর শাস্তি দাবি রোনালদোর

Published: October 7, 2026, 7:21 pm

ফুটবল বিশ্বে বড় চমক নিয়ে হাজির হলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। নেশনস লিগের ক্যাম্প ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর যখন ফুটবলপ্রেমীরা তার অবসরের ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলেন, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক ও বিস্তারিত পাঁচ পাতার চিঠিতে সব ঘটনার রহস্য উন্মোচন করলেন সিআরসেভেন। প্রায় দুই হাজার শব্দের এই পত্রে তিনি ডেনমার্ক ম্যাচের আগের ঘটনা, কোচের সাথে মতপার্থক্য এবং দলের অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে নিজেকে কঠোর শাস্তি দেওয়ার জন্য পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এই তারকা ফুটবলার। হঠাৎ করেই ফুটবল দুনিয়ায় এক বিস্ফোরণ ঘটালেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। নেশনস লিগের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনার পর অনেকেই যখন তার অবসরের ঘোষণা দেখার অপেক্ষায় ছিলেন, তখনই ৫ পৃষ্ঠার এক বিশাল চিঠিতে সবকিছুর খোলস ভাঙলেন সিআরসেভেন। আমি এখনো সেটি যত্ন করে রেখে দিয়েছি, যেদিন চিরতরে জাতীয় দলকে বিদায় জানাব, সেদিন এই শব্দগুলোই তাদের সামনে তুলে ধরব। আমার মতে এটিই সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত হবে। নতুন প্রধান কোচকে যেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলো, সেদিন সিদ্ধান্তটিতে আমি সত্যি অনেক আনন্দিত হয়েছিলাম। এর কয়েক দিন পরই নতুন কোচের পক্ষ থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং তিনি সরাসরি দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

চিঠিতে রোনালদো জানান, ২০২৬ বিশ্বকাপের পরই সমর্থকদের উদ্দেশে বিদায়ী বার্তার একটি খসড়া তিনি তৈরি রেখেছিলেন। তবে টুর্নামেন্ট শেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার সময় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাকে অবসর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জোরালো অনুরোধ জানান। সেই আলোচনার সূত্র ধরেই নতুন প্রধান কোচ হিসেবে জর্জে জেসুসের নাম উঠে আসে এবং ফেডারেশন সভাপতি তার নিয়োগ নিয়ে রোনালদোর মতামত জানতে চান। রোনালদো জানান, সেই সময় জেসুসের নিয়োগের বিষয়টি তাকে বেশ আনন্দিত করেছিল। প্রায় ২০০০ শব্দের চিঠিতে রোনালদো লিখেছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর পর্তুগালের সমর্থকদের উদ্দেশে একটি চিঠি লিখে তৈরি রেখেছিলাম।

নতুন কোচের সাথে নিজের ভূমিকা নিয়ে রোনালদো বলেন, কোচ তাকে প্রথম ও শেষ ম্যাচে খেলানোর পরিকল্পনা জানিয়েছিলেন। এছাড়া শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখার সুবিধার্থে প্রতি ম্যাচে তিন থেকে চারটি পরিবর্তনের কথা ছিল কোচের পরিকল্পনায়। এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময় আল-নাসরের স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমাও কৌতিনিও উপস্থিত ছিলেন বলে রোনালদো চিঠিতে উল্লেখ করেন। সিমাও কৌতিনিওর কাছেই বর্তমান কোচ বিগত মৌসুমজুড়ে দায়বদ্ধ ছিলেন এবং ২০২৫ সালে তার চুক্তির বিষয়টিও সেই আলোচনায় উঠে এসেছিল।

নিজের ভুলের জন্য কোনো অজুহাত না দিয়ে রোনালদো স্পষ্ট ভাষায় ক্ষমা চেয়েছেন। শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে যে দায়ভার তিনি নিয়েছেন, তার জন্য কোনো ছাড় না চেয়ে বরং নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ শাস্তির দাবি করেছেন তিনি। ইএসপিএন-এর তথ্যানুযায়ী, রোনালদোর এই চিঠি পর্তুগিজ দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও তার নিজের অবস্থান নিয়ে নতুন এক আলোচনার সূত্রপাত করেছে। নিজের ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বিকেলে দাঁড়িয়ে এমন বিতর্কিত ঘটনার পরেও নিজের ভুল স্বীকার করে নেওয়াকে ফুটবল বিশ্লেষকরা বেশ গুরুত্বের সাথে দেখছেন। এই ঘটনার পর দলের ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ফেডারেশন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।