৭ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা ও গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান কাতার-ফ্রান্সের

Published: October 23, 2026, 1:30 pm

হরমুজ প্রণালিতে অবাধে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং গাজায় দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছে কাতার ও ফ্রান্স। দোহায় আয়োজিত এক শীর্ষ বৈঠকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই যৌথ বার্তা প্রদান করেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত বিবৃতিতে দুই নেতা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের বাধা বা বাড়তি ফি ছাড়াই নৌযান চলাচল অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌ চলাচলের স্বার্থে এ পথ উন্মুক্ত রাখা জরুরি বলেও তাঁদের অবস্থানে প্রতিফলিত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ওপর ইরানের সামরিক হামলার কড়া নিন্দা জানিয়েছেন কাতার ও ফ্রান্সের রাষ্ট্রপ্রধানরা। তাঁদের মতে, এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। এর আগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) কাতারের মধ্যস্থতাকারী ইব্রাহিম বিন সুলতান আল-হাশমি জানিয়েছিলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও জানিয়েছেন, তেহরান বিদ্যমান পরিস্থিতি সমাধানে কূটনীতিকে নতুন সুযোগ দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

গাজা উপত্যকার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কাতার ও ফ্রান্সের নেতারা। যৌথ বিবৃতিতে অবিলম্বে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং যেকোনো শর্ত বা বাধা ছাড়াই মানবিক ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর দাবি জানানো হয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ১৪ লাখ মানুষ বর্তমানে তীব্র খাদ্যসংকটের সম্মুখীন, যা অঞ্চলটির মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। এ সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর দখল বা ইসরায়েলের সাথে সংযুক্তি প্রচেষ্টার যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে কাতার ও ফ্রান্স। একই সাথে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধের ওপর জোরালো তাগিদ দিয়েছেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। মূলত আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং মানবিক পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নের লক্ষে কূটনৈতিক পথই একমাত্র সমাধান বলে মনে করছে দুই দেশ।

কাতার ও ফ্রান্সের এই বৈঠকের বাইরেও মধ্যপ্রাচ্যের নানা অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয় আলোচনায় এসেছে।

এর মধ্যে কাতারের জাতীয় পেমেন্ট কার্ড ‘হিময়ান’ স্যামসাং ওয়ালেটে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পেয়েছে।

এছাড়া কাতারে ড্রোন ওড়ানো বা ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মাবলি, ১০ বছর মেয়াদী ভিসা প্রদান পদ্ধতি এবং দেশটিতে জুমার নামাজের সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নতুন নির্দেশিকা নিয়ে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। অন্যদিকে, শীর্ষ ১০০ ব্যবসায়ী নেতার তালিকায় কাতারের ৯ করপোরেট ব্যক্তিত্বের স্থান অর্জন দেশটির অর্থনৈতিক সাফল্যের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কাতার ১০ বছরের ভিসা দিচ্ছে কাদের এবং কীভাবে। কাতারে অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ালে ৭ বছরের জেল ও ৩ লাখ রিয়াল জরিমানা।