২০ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাবিপ্রবির হলে শেখ রাসেল কর্নারের জায়গায় ছাত্রদলের লোগো

Published: October 1, 2026, 2:54 pm

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ছাত্ররাজনীতি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ হলেও শহীদ নূর হোসেন হলের কমনরুমে ছাত্রদলের লোগো স্থাপনের ঘটনাটি নিয়ে ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, হলের কমনরুমের দেয়ালে ছাত্রদলের লোগোটি এমন স্থানে লাগানো হয়েছে, যেখানে আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ‘শেখ রাসেল কর্নার’ ছিল। গত ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীরা সেই কর্নারটি সরিয়ে ফেললে জায়গাটি খালি হয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে ছাত্রদলের লোগো বসানোয় ক্যাম্পাসে আবারও পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে কি না, তা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সম্প্রতি একই স্থানে ছাত্রদলের দলীয় লোগো লাগানোয় পুরনো ধাঁচের রাজনীতি নতুন করে শুরু হলো কি না—তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্ক ও আলোচনা চলছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে শহীদ নূর হোসেন হলের হল সুপার অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান হাফিজ জানান, লোগো লাগানোর বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগও তার কাছে আসেনি। ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহাবস্থান বজায় থাকায় বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা নেই বলে তিনি মনে করেন। তবে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখছেন না, যদিও অনেকেই সরাসরি মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে এর সমালোচনা করেছেন। যেহেতু ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সহাবস্থান রয়েছে, সেহেতু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই।

হাবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি এহসানুল কবির অর্ণব এই লোগো স্থাপনের বিষয়টি স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন। তিনি দাবি করেন, দলের প্রতি অনুরাগী কিছু কর্মী নিজ উদ্যোগে এই লোগো লাগিয়েছেন এবং এর পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি মুক্ত চর্চার জায়গা, তাই শিবিরসহ অন্য যেকোনো সংগঠন চাইলে তাদের লোগো বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারে। এহসানুল কবির হলের মধ্যে দলীয় প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা দৃঢ়ভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দলীয় লোগোটি ছোট ভাইয়েরা লাগিয়েছে, যারা দলকে ভালোবাসে এবং ধারণ করে।

তবে এই ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রেজওয়ানুল হক। তিনি বলেন, হলের কমন স্পেস বা টিভি রুম সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় নয়। নির্দিষ্ট কোনো দলের প্রতীক স্থাপন করে হলের নিরপেক্ষ পরিবেশ নষ্ট করা সমীচীন নয় বলে তিনি মনে করেন। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে দ্রুত এই লোগো সরিয়ে হলটির নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। রেজওয়ানুল হক বলেন, শিক্ষার্থীরা অতীতে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারের যে সংস্কৃতি দেখেছে, তার পুনরাবৃত্তি আর দেখতে চায় না। তবে বিষয়টির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবির।