২০ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আহত পাইলটকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স

Published: October 4, 2026, 11:23 pm

ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে সহপাইলটের হামলার শিকার ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। গত বুধবার তেল আবিবগামী ওই ফ্লাইটে সহপাইলট হামাম আল-হাম্মামি কুঠার নিয়ে স্মিত মাচ্ছারের ওপর চড়াও হন এবং বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় গুরুতর আহত হলেও স্মিত মাচ্ছার অসীম সাহসিকতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে তিনি দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানের ক্যাপ্টেন ছিলেন মাচ্ছার।

ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান মাচ্ছারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তাঁর সাহসিকতার জন্য গভীর শ্রদ্ধা ও প্রশংসা ব্যক্ত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, মাচ্ছার আমাদের দলের এবং দেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংযুক্ত আরব আমিরাত যে শান্তি ও জীবন রক্ষার মূল্যবোধে বিশ্বাসী, তিনি তার প্রতীক। সাক্ষাতের সময় প্রিন্সকে পাইলটের সঙ্গে কথা বলতে এবং তাঁকে আলিঙ্গন করে সান্ত্বনা দিতে দেখা গেছে। এটি সহমর্মিতা, শান্তি ও জীবনের পক্ষে থাকা একটি দেশ।’। ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে মাচ্ছারের সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সময় কুঠারের আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় স্মিত মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলে দিয়ে যাত্রীদের সতর্ক করেন। এতে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে ১৭২ জন যাত্রী রক্ষা পান। ককপিটে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বিমানটি কয়েক হাজার ফুট নিচে নেমে গেলেও যাত্রীদের সহায়তায় হামামকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং কর্তব্যরত অন্য পাইলটরা বিমানটি নিরাপদে অবতরণে সক্ষম হন।

স্মিত মাচ্ছারের এই বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এদিকে হামামের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো সন্ত্রাসী উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে কট্টরপন্থী মতাদর্শের কারণে হামামকে ওমানে উড়োজাহাজ চালানো থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। পুরো ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে কোনো ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা উদ্দেশ্যের’ যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।