২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতশাসিত কাশ্মীরে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু

Published: October 8, 2026, 4:19 pm

ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে কথিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের চিহ্নিত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, প্রথম ধাপে প্রায় ৩০০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, গত সোমবার ও মঙ্গলবার এই নাগরিকদের দুটি আলাদা দলে ভাগ করে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, সোমবার ও মঙ্গলবার প্রায় ৩০০ বাংলাদেশিকে দুটি দলে ভাগ করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গত মে মাসে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনকে জানিয়েছিল যে, অঞ্চলটিতে প্রায় ৬০০ জন বাংলাদেশি অবৈধভাবে বসবাস করছেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের অনেকের কাছেই কোনো বৈধ ভিসা নেই। এই ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানোর অংশ হিসেবেই বর্তমান অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীরে এর আগে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের উচ্ছেদ ও ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে, যার ধারাবাহিকতা হিসেবেই বর্তমান এই অভিযানকে দেখা হচ্ছে। সরকারি সূত্রের বরাতে জানি গেছে, গত মে মাসে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনকে জানায়, বাংলাদেশ থেকে আসা প্রায় ৬০০ জন কথিত অবৈধ অভিবাসী কয়েক বছর ধরে অঞ্চলটির বিভিন্ন এলাকা। কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের অনেকেই বৈধ ভিসা ছাড়াই সীমান্ত অতিক্রম করেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জম্মু ও কাশ্মীরের জম্মু অঞ্চল এবং কাশ্মীর উপত্যকায় ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের’ বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি ও তাদের সমর্থকদের দাবি, অবৈধভাবে বসবাসকারী এই জনগোষ্ঠীর কারণে স্থানীয় সম্পদের ওপর চাপ বাড়ছে, যা বিশেষ করে জম্মু অঞ্চলের বাসিন্দাদের কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া, পরিচয়পত্রবিহীন এসব ব্যক্তিদের দ্বারা অপরাধমূলক বা উগ্রপন্থি কর্মকাণ্ড ঘটার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনে ভারত স্বাক্ষরকারী দেশ নয়, তাই এই ভূখণ্ডে রোহিঙ্গাদের আনুষ্ঠানিক কোনো শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া হয়নি। এর আগে ২০১৭ সালেও অনুপ্রবেশের অভিযোগে একাধিক রোহিঙ্গাকে একই নীতি অনুযায়ী ফেরত পাঠানো হয়েছিল।

তবে সরকারি এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করছেন মানবাধিকারকর্মীরা। সাংবাদিক ও বিশ্লেষক হারুন রেশি জানান, আন্তর্জাতিক আইনের ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতি অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে এমন কোনো দেশে ফেরত পাঠানো ঠিক নয়, যেখানে তার জীবন বা স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভারত শরণার্থী কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী না হলেও দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে বিদেশি নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, জম্মু ও কাশ্মীরে বসবাসরত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অভিবাসীদের বড় একটি অংশ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং স্যানিটেশনের মতো মানবিক সুযোগ-সুবিধাও তাদের জন্য অত্যন্ত সীমিত। বর্তমানে এই অভিবাসীদের একটি বড় অংশ জম্মু ও কাশ্মীর উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে।