২৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিয়াদজুড়ে বিস্ফোরণ, কিং খালিদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুতিদের

Published: October 8, 2026, 4:49 pm

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করেছে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) হুতিদের এই দাবির পাশাপাশি রিয়াদজুড়ে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি এবং হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের তীব্র আওয়াজ পাওয়া যায়। এমন পরিস্থিতির মুখে কূটনীতিকদের নিজ নিজ দূতাবাসের ভেতরে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক স্কুলগুলোতেও জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) হুতিদের এ দাবির মধ্যেই রিয়াদজুড়ে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

এর মাত্র একদিন আগে কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুতিদের ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং আটজন আহত হন। একই দিনে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আবহা বিমানবন্দরে আরও একটি পৃথক হামলায় দুজন নিহত ও ২৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে একজন মরক্কোর এবং অন্যজন আলজেরিয়ার নাগরিক ছিলেন। হামলার কারণে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রিয়াদ ও আবহা বিমানবন্দরে বিমান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালকি জানিয়েছেন, রিয়াদের উত্তরাঞ্চলে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হামলা চালানোর একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ মঞ্চ ধ্বংস করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুতিরা দফায় দফায় হামলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়ে সৌদি আরবকে চাপে ফেলা এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে ফেলাই হুতিদের লক্ষ্য। এদিকে, লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এই রুট দিয়ে সম্পন্ন হয়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাস থেকে ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় দুই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে ইয়েমেন অঞ্চলটি এখন যুদ্ধের একটি সক্রিয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।