
গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে পরিকল্পিত জালিয়াতির আশ্রয় নিতেন সানজি গ্রুপ অব কোম্পানিজের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) পার্থ সারথী হালদার। তিনি প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যারে টাকা জমা হয়েছে বলে ভুয়া তথ্য দেখাতেন। আবার কখনো মালিকের সই করা ফাঁকা চেকের প্রাপকের নাম পরিবর্তন করে ব্যক্তিগত হিসাবে টাকা সরিয়ে নিতেন। এ ধরনের কৌশলে প্রতিষ্ঠানটির মোট ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সিআইডি সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার পশ্চিম রাজাবাজার এলাকা থেকে পার্থ সারথীকে গ্রেপ্তার করে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পার্থ সারথী হালদারসহ অন্য অভিযুক্তরা পরস্পরের যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ আত্মসাৎ করেন।
সিআইডির ভাষ্যমতে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পার্থ সারথী নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর ভাটারা থানায় করা মামলায় এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর শান্তিনগর এলাকা থেকে সাইফুল ইসলাম ওরফে জনি এবং সৈয়দ আরব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মামলার তদন্তে দেখা গেছে, পার্থ সারথী নিজের ব্র্যাক ব্যাংকের হিসাব ও এনআরবিসি ব্যাংকের দুটি হিসাব ব্যবহার করে ২ কোটি ২৭ লাখ ২২ হাজার ৮৯৭ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও সানজি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পানামা সিএনজি কনভার্সন থেকে কৌশলে ৬৫ লাখ ৭ হাজার ৯৫০ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শান্তিনগর মোড় এলাকা থেকে এ মামলায় সাইফুল ইসলাম ওরফে জনি (৩৭) ও সৈয়দ আরব আলী (৫২) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল সিআইডি।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে পার্থ সারথী বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় ৯ কোটি ৫৩ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৯ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। নগদ অর্থ সংগ্রহ এবং ফাঁকা চেক ব্যবহারের মতো নানা জালিয়াতির মাধ্যমে মোট ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, অর্থ আত্মসাতের এই চক্রে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।





