৫ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে ইন্টারনেট ক্যাবল নিয়ে ইরানের হুমকি, কাতারের সতর্কতা

Published: October 21, 2026, 8:14 pm

হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাতটি প্রধান সাবমেরিন ফাইবার-অপটিক ক্যাবল লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনীর সাম্প্রতিক হুমকিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কাতার তার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। কাতারের ভাষ্যমতে, হরমুজ প্রণালির জলপথে কোনো ধরণের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বা অবকাঠামো ধ্বংসের চেষ্টা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

গত ১৯ অক্টোবর (সোমবার) সৌদি গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি এই হুমকির বিষয়টি সামনে আনেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে জানানো হয় সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইরানের বাহিনীটি ওই হুমকি দেয় বাহিনীটি।

তেহরানের স্যাক্রেড ডিফেন্স জাদুঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, অঞ্চলটির ইন্টারনেট ও বাণিজ্যিক ডেটার বড় একটি প্রবাহ হরমুজ প্রণালির তলদেশে থাকা এই সাতটি ক্যাবলের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। তিনি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান সেখানে নতুন অস্ত্র ও নতুন লক্ষ্যবস্তুর ব্যবহার করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতিকে বিতাড়িত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুধু তাদের জানাতে চাই, নতুন লক্ষ্যবস্তু প্রকাশ করা হবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার অবশিষ্টাংশ বলে তিনি যাকে উল্লেখ করেছেন, সেগুলোকে অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করার অঙ্গীকার করেছেন।

এর আগে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়িও সতর্ক করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের মাত্রা বাড়লে ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সমুদ্রের তলদেশের ক্যাবলগুলো হামলার প্রধান লক্ষ্যে পরিণত হতে পারে। টেলিজিওগ্রাফির তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি ডেটা আদান-প্রদান লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ফাইবার-অপটিক ক্যাবলের ওপর নির্ভরশীল। তাই এই জলপথে যে কোনো ধরণের বিঘ্ন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক যোগাযোগে বড় ধরণের সংকট তৈরি করতে পারে।

উল্লেখ্য, এ বছরের মার্চ মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের অবকাঠামোর ওপর ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই হামলায় ক্লাউড সেবা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই রেশ না কাটতেই নতুন এই হুমকির বিষয়টি সামনে এলো।

কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক ইব্রাহিম আল-হাশমি মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, কেবল ইন্টারনেট সেবাই নয়, হরমুজ প্রণালির পানি সেচ, লবণ উৎপাদন ও মৎস্য আহরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হয়। ক্যাবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে পানির নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়বে। আল-হাশমির মতে, এমন কর্মকাণ্ডের কারণে ইরান নিজেও বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হবে। পরিশেষে কাতার অবিলম্বে এই জলপথকে লক্ষ্য করে চালানো সব ধরণের হুমকি ও হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।