৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অরুণাচলে বাঁধবিরোধী আন্দোলন: পুলিশের সাথে সংঘর্ষে আহত বহু

Published: October 24, 2026, 6:27 pm

ভারতের অরুণাচল প্রদেশে আপার সিয়াং অঞ্চলে প্রস্তাবিত বাঁধনির্ভর বহুমুখী প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণের ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজেপি সরকার ওই এলাকায় পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। ২৩ অক্টোবর সিয়াং, আপার সিয়াং ও ইস্ট সিয়াং জেলায় ডাকা ১২ ঘণ্টার ধর্মঘটে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। আদি বানে কেবাং এবং সিয়াং ইন্ডিজেনাস ফার্মার্স ফোরামের যুব শাখাসহ একাধিক আদিবাসী সংগঠনের ডাকে এই কর্মসূচি পালিত হয়। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াংয়ে বাঁধকেন্দ্রিক বহুমুখী প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলন ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সিয়াং, আপার সিয়াং ও ইস্ট সিয়াং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এ ধর্মঘটের বেশ প্রভাব পড়েছে।

বিক্ষোভ চলাকালে শুক্রবার যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার সরাসরি বিক্ষোভকারীদের ওপর নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার ফলে অন্তত ছয়জন নারী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং অনেকে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। অন্যদিকে, সিয়াংয়ের পুলিশ সুপার কামদাম সিকম দাবি করেছেন, ১৫০ থেকে ২০০ বিক্ষোভকারী ডিটে-ডাইমে এলাকায় জড়ো হয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পাসিঘাটেও একই ধরনের সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে পুলিশের একাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবারও ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশ প্রশাসন অবশ্য অন্য দাবি করেছে। সেখানে বাঁধবিরোধী যুব বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোড়ে। বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়তে বাধ্য হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার সরাসরি অনেক বিক্ষোভকারীর গায়ে আছড়ে পড়ে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাঁদের সরাতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর প্রধান চারটি দাবির মধ্যে রয়েছে বাঁধের আগাম সমীক্ষার কাজ পুরোপুরি বন্ধ করা, আটক ১০ জন আন্দোলনকারীকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া, বরখাস্ত হওয়া গাওঁ বুড়াদের চাকরিতে পুনর্বহাল এবং এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যাহার করা। তাদের অভিযোগ, আগে সরকার গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তি ও সমীক্ষার কাজ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করেনি। সেই সঙ্গে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে হবে।

এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অরুণাচল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি। কংগ্রেসের মতে, মেগা বাঁধ ইস্যুতে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর দমনের এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে তারা বলেছে, বলপ্রয়োগ করে জনগণের সম্মতি অর্জন সম্ভব নয়। কংগ্রেস অবিলম্বে সরকারকে আদিবাসী সংগঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে আলোচনায় বসার এবং আহতদের চিকিৎসার সুব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে এই জনরোষের দায়ভার গ্রহণ করে সরকারি পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন দলটির নেতারা।