১০ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাতীবান্ধায় বাঘের আক্রমণে আহত ৩, ড্রোন দিয়েও মেলেনি হদিস

Published: October 26, 2026, 3:10 pm

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে বন্য প্রাণীর আক্রমণে তিন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বন্য প্রাণীটিকে শনাক্ত ও উদ্ধারের জন্য রোববার সন্ধ্যা থেকে বিজিবি ও বন বিভাগ যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সোমবার সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রাণীটিকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের ধারণা, এটি একটি বাঘ। পাশাপাশি এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিং করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। ঢাকা থেকে আসা বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ টিমের চার সদস্যসহ লালমনিরহাট, হাতীবান্ধা ও রংপুরের মোট ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রোববার সন্ধ্যা থেকে উত্তর আমঝোল এলাকায় সরেজমিনে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ করছেন। ১৫ বিজিবির অধিনায়ক বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে গতকাল সন্ধ্যার আগে ও পরে আমঝোল সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে বিজিবি ৪–৫টি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। প্রাণীটিকে নিরাপদে উদ্ধার এবং আবার লোকালয়ে প্রবেশের ঝুঁকি এড়াতে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবির অধিনায়ক জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বন বিভাগকে বিষয়টি জানান।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ২৫ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে বনচৌকি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৯০৫/১১ এস থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের ভেতরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। শরিফা বেগম (৩০) নামের এক নারী হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজতে গিয়ে ধানখেতের পাশে বাঘের কবলে পড়েন। তাঁর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে বাঘের আক্রমণে আরও দুজন আহত হন। খবর পেয়ে বিজিবি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনসাধারণের সুরক্ষায় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে, যার ফলে প্রাণীটি পাশের জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। রোববার গভীর রাতে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৫ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক পাঁচটার দিকে বনচৌকি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার উত্তর আমঝোলে সীমান্ত পিলার ৯০৫/১১ এস। এরপর বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বিজিবি ভারতের কোচবিহার জেলার গোপালপুর ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডারকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে। স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএসএফকে সতর্ক করা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে বাংলাদেশের ভেতরে বিজিবি গুলি ছুড়তে পারে—এমন বার্তাও তাদের দেওয়া হয়েছে। রোববার রাতজুড়ে শত শত স্থানীয় বাসিন্দা টর্চ ও মুঠোফোনের আলো নিয়ে এলাকা পাহারা দিয়েছেন এবং বিজিবি ড্রোন ব্যবহার করে প্রাণীটিকে শনাক্তের চেষ্টা করেছে।

লালমনিরহাট জেলা সামাজিক বনায়ন, নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আক্রান্ত ছাগলের দেহে আঘাতের ধরন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রাণীটি চিতাবাঘ হতে পারে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ দল বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।