১৫ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই ব্যক্তিকে অপহরণের পর পিটিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় চাঞ্চল্য

Published: October 30, 2026, 8:56 pm

কক্সবাজারের উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে (ক্যাম্প-১৫) গভীর রাতে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিয়াগত রাত আড়াইটার দিকে ক্যাম্পের ডি-৩ ব্লকের একটি ঘর থেকে সশস্ত্র অবস্থায় কয়েকজনকে অপহরণ করা হয়। এই ঘটনায় মো. আয়াছ (২০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় সৈয়দ মোহাম্মদ (২৪) নামের আরেকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী দুজনই আরএসও (আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন) সদস্য বলে ক্যাম্পের একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

রোহিঙ্গা নেতা কামাল আহমদের ভাষ্যমতে, আরসা (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি) দলের এক ক্যাম্প কমান্ডারের নেতৃত্বে প্রায় ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী রাত আড়াইটার দিকে আয়াছ ও সৈয়দ মোহাম্মদের ঘরে হানা দেয়।

তাদের তুলে নিয়ে গিয়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক রোহিঙ্গা নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে আরসার কমান্ডারের বাসভবনে নিয়ে ভুক্তভোগীদের হাত-পা বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলেই আয়াছের মৃত্যু হয় এবং সৈয়দ মোহাম্মদকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। সকাল আটটার দিকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন-৮) সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার এবং আহতের হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সেখানে তাঁদের হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। পরিবারের দাবি, অপহরণকারীরা শিশুটির বাবার কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। এ সময় মুক্তিপণের জন্য শিশুটির ভিডিও ধারণ করা হয়।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। এর আগেও গত ১০ অক্টোবর একই ক্যাম্প থেকে মো. ওমাইর (৪) নামের এক শিশুকে অপহরণের দুই দিন পর বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় মুক্তিপণ দাবি ও শিশু হত্যার অভিযোগে আবদুর রহমান ও তার স্ত্রী আনসার বেগমকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

আশ্রয়শিবিরে ধারাবাহিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে। চলতি বছরের জুন মাসে বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-৯) পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলহামকে তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরও হত্যা করা হয়। এছাড়া গত জানুয়ারিতে ১৯ নম্বর ক্যাম্প থেকে আরাকান নামের এক শিশুকে অপহরণ করে গলা পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে মুক্তিপণ দিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এপিবিএন-এর তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তিপণকে কেন্দ্র করে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।