
কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া এবং লালমাই উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে জাতীয় যুব দিবসের র্যালিতে অংশ নিয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এক নেতা। র্যালিতে আওয়ামী লীগ নেতা আবু তাহের রনির এমন উপস্থিতি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। রোববার বিকেলে লালমাই উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
র্যালিতে দেখা যায়, ওসি মিজানুর রহমানের ডান পাশে এবং ইউএনও সুব্রত বিশ্বাস দাসের বাম পাশে অবস্থান করছিলেন আবু তাহের রনি। তাঁর ঠিক পাশেই সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকে হাঁটতে দেখা যায়। আবু তাহের রনি বর্তমানে লালমাই উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। জানা গেছে, গত ৯ মার্চ লালমাই থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছিল। পরবর্তীতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় করা একটি মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তখন আমার ডানে-বামে কে রয়েছেন, সেটি আমার জানা ছিল না। তাঁর অন্য কোনো দলীয় পদ-পদবি রয়েছে কি না, সেটি আমার জানা নেই।
ঘটনাটি নিয়ে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, রনি উপজেলা যুব সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে তাঁকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে কারাভোগ করেছেন কি না, সেই তথ্য তাঁর জানা ছিল না। লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, অনুষ্ঠানটি উপজেলা প্রশাসনের এবং এমপি মহোদয় নিজে ডেকে র্যালিতে নিয়েছিলেন। তিনি নতুন যোগ দিয়েছেন এবং কার নামে কী মামলা রয়েছে তা তাঁর জানা ছিল না বলে দাবি করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুব্রত বিশ্বাস দাস বলেন, রনি একজন এনজিও পরিচালক হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন, তাঁর রাজনৈতিক পদবির বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন তিনি। তাঁর সাথে কারা ছিল তা তিনি খেয়াল করেননি এবং এটি দেখার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। এনজিওর পক্ষ থেকে আমাদের অনুষ্ঠানে এসেছেন।





