১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রবি বোলার হান্ট সমাপ্ত: চূড়ান্ত পর্বে ২১ উদীয়মান বোলারের স্বীকৃতি অর্জন

Published: November 2, 2026, 10:46 pm

দেশের প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেট প্রতিভাদের খুঁজে বের করতে এবং তাঁদের দক্ষতার উত্তরোত্তর প্রসারে আয়োজিত রবি বোলার হান্টের সমাপনী ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানা হয়। সারাদেশের তরুণ ক্রিকেটারদের মধ্য থেকে সেরাদের নির্বাচন করে তাঁদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক প্রতিভার অংশগ্রহণ এবং সেখান থেকে প্রতিশ্রুতিশীল বোলারকে বাছাই করার মধ্য দিয়ে দেশের ক্রিকেটে নতুন প্রতিভা তুলে আনার এই উদ্যোগের ব্যাপকতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রচেষ্টা প্রতিফলিত হয়েছে। সেখানে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তাঁদের মূল্যায়ন করা হয়।

প্রতিভা অন্বেষণের বিস্তৃত কার্যক্রম

এই বিশাল আয়োজনের সূচনা হয়েছিল ২৫ হাজারের বেশি উদীয়মান ক্রিকেটারের নিবন্ধনের মাধ্যমে। সারাদেশে বিস্তৃত ৯টি নির্দিষ্ট ভেন্যুতে প্রাথমিক মাঠপর্যায়ের ট্রায়াল গ্রহণের পর মোট ১৪৩ জন সম্ভাবনাময় বোলারকে পরবর্তী ধাপের জন্য মনোনীত করা হয়। চূড়ান্ত তালিকায় উঠে আসা তরুণদের মধ্যে ৫৭ জন পেস বোলার এবং ৮৬ জন স্পিন বোলার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। লিঙ্গভিত্তিক বিচারে পুরুষ বিভাগে ১০৮ জন এবং নারী বিভাগে ৩৫ জন বোলার এই পর্বে লড়াইয়ের সুযোগ পান, যা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি ইতিবাচক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আবহ তৈরি করেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৫৭ জন পেসার ও ৮৬ জন স্পিনার।

জাতীয় পর্যায় থেকে চূড়ান্ত নির্বাচন

প্রাথমিক পর্ব উৎরে যাওয়া খেলোয়াড়দের নিয়ে গত ১ নভেম্বর রাজধানী ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের একটি বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। সারাদিন ধরে নিবিড় অনুশীলন ও মেধা মূল্যায়নের পর সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছিল। পারফরম্যান্স ও টেকনিকের ভিত্তিতে টিকে থাকা ৪২ জন প্রতিযোগী ২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত ট্রায়ালে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেন। অভিজ্ঞ ক্রিকেট কোচ ও বিশেষজ্ঞদের সুনির্দিষ্ট পর্যালোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে ২১ জন বিজয়ী বোলারকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এছাড়া অসাধারণ দক্ষতার জন্য আরও দুই তরুণ বোলার লাভ করেছেন বিশেষ সম্মাননা।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ

সমাপনী অনুষ্ঠানের পুরষ্কার বিতরণ পর্বে প্রধান অতিথি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বিসিবি ও রবি আজিয়াটা পিএলসি-র শীর্ষ কর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন

  • বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল খান
  • বিসিবি সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী
  • রবি আজিয়াটা পিএলসি’র হেড অব মার্কেটিং শওকত কাদের চৌধুরী
  • রবি আজিয়াটা পিএলসি’র চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম
  • উভয় প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ

বিসিবি প্রধান ও রবি শীর্ষ কর্তাদের মন্তব্য

অনুষ্ঠানে ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ নেতৃত্ব ও রবি কর্তারা ক্রিকেটারদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। তাঁদের বক্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো

বিসিবি প্রধান তামিম ইকবাল খান দেশের ক্রিকেটের ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “বাংলাদেশের ক্রিকেটের ধারাবাহিক উন্নয়নে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং তাদের বিকাশে সহায়তা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রবি বোলার হান্টের মতো উদ্যোগ সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরা এবং স্বীকৃতি পাওয়ার মূল্যবান সুযোগ করে দেয়। ক্রিকেটের উন্নয়নে রবির সম্পৃক্ততাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আশা করি, এই উদ্যোগ আরও অনেক তরুণ বোলারকে নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে উৎসাহিত করবে।”

রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও জিয়াদ সাতারা তৃণমূলের অগ্রগতি নিয়ে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “রবি বোলার হান্ট বাংলাদেশের তরুণ প্রতিভাদের জন্য অর্থবহ সুযোগ তৈরিতে আমাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিভা যেকোনো জায়গা থেকেই উঠে আসতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার এবং স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিকেটের উন্নয়নে অবদান রাখা এবং বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের অনুপ্রাণিত করাই রবির লক্ষ্য।”

মার্কেটিং প্রধান শওকত কাদের চৌধুরী তরুণদের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “রবি বোলার হান্ট সম্ভাবনাময় বোলারদের জন্য সুযোগ তৈরিতে আমাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। আমরা বিশ্বাস করি, এই আয়োজন আরও অনেক তরুণকে ক্রিকেটে এগিয়ে আসতে এবং নিজেদের প্রতিভা বিকাশে অনুপ্রাণিত করবে।”

আয়োজনের পটভূমি ও সাফল্য

গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে সিলেটের ভেন্যু দিয়ে মাঠপর্যায়ের বাছাই কার্যক্রমের চাকা গড়ায়। এরপর দেশের বিভিন্ন কৌশলগত স্থান—ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর এবং ঢাকার দুটি ভেন্যুসহ মোট আটটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে ট্রায়াল অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা ভেন্যুতে বরিশালের ক্রিকেট প্রতিভাদের অংশ নেওয়ার বিশেষ সুযোগ ছিল। এর পূর্বেও বিসিবি ও রবির যৌথ উদ্যোগে পেস ও স্পিন বোলার হান্ট সফলভাবে পরিচালিত হয়েছিল, যেখান থেকে রিশাদ হোসেন ও এবাদত হোসেনের মতো জাতীয় দলের তারকা বোলারদের উত্থান ঘটেছিল।