
সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে ভ্যানচালক শাজাহান আলীকে প্রাণনাশের পর মাটিতে পুঁতে রাখার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-৩য় আদালতের বিচারক নজরুল ইসলাম এই দণ্ডাদেশ দেন। দীর্ঘ ১৫ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের এ রায় প্রকাশ্যে এল। মামলায় অভিযুক্ত ৮ জনের মধ্যে ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, অনাদায়ে তাদের আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কাজীপুরের কুমারিয়াবাড়ী গ্রামের শিবলু, লাল মিয়া, সুরুজ আলী এবং হারুন।
একই মামলার রায়ে নিহতের স্ত্রী শিরিনা খাতুন, শ্বশুর সিরাজ আলী ও শাশুড়ি বানেছা বেগমকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে চার মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মামলার অপর এক অভিযুক্ত আসমা খাতুনকে প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন আদালত। আদালতের অতিরিক্ত পিপি এনামুল করিম শাহীন জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রতীক্ষিত এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০০৬ সালে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর বাসিন্দা আরফান আলীর ছেলে শাজাহান আলীর সঙ্গে কাজীপুরের কুমারিয়াবাড়ী গ্রামের সিরাজ আলীর মেয়ে শিরিনা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর পারিবারিক কলহের জেরে শাজাহান আলী শ্বশুরবাড়িতে থাকা শুরু করেন এবং ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় হারুন ও শিবলুসহ কয়েকজন নিয়মিত শ্বশুরবাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন, যা নিয়ে শাজাহান আপত্তি জানালে তাকে কয়েকবার মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত ২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর, যেদিন বাড়ি থেকে বের হয়ে শাজাহান আর ফিরে আসেননি। পরের দিন ১২ নভেম্বর শ্বশুরবাড়ির আঙিনায় মাটির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে হত্যার পর মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশি তদন্তে উঠে আসে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আরফান আলী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ৪ জানুয়ারি ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। শেষ পর্যন্ত বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালত এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মামলার মোট ৮ জন আসামির মধ্যে ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং নিহতের স্ত্রী-শ্বশুর-শাশুড়িকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিয়ের ৬ মাস পর শিরিনাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে আনা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০ দিন পর শিরিনার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে আনতে গেলে আসামি হারুন, শিবলু, সুরুজ ও লাল মিয়ার কুমন্ত্রণায় শিরিনার মা-বাবা শিরিনাকে শ্বশুর বাড়িতে আসতে বাধা দেয়।



