৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন তথ্য: প্রথমবার জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Published: September 20, 2026, 2:09 pm

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে আগামীকাল সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এটি হতে যাচ্ছে জাতিসংঘে তাঁর প্রথম ভাষণ। সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে তিনি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। ব্যয় সংকোচনের কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রীর এই যুক্তরাষ্ট্র সফরটি কিছুটা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে এবং ভাষণ প্রদান শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে।

নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক ব্যস্ততা শুরু হবে। জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর তিনি সরাসরি গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে উঠবেন। তাঁর সফরের শুরুতেই জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া সাইডলাইন সম্মেলনে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসবেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, থাইল্যান্ডের আনুতিন চারনভিরাকুল, ভুটানের শেরিং তোবগে, পাকিস্তানের শেহবাজ শরিফ, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ আল-খালেদ আল-সাবাহ এবং ক্রোয়েশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক নিশ্চিত হয়েছে।

এই সফরকালে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর একাধিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক, শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টনিও কোস্তা। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডন নেলসনের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। বিশেষ করে, ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেওয়া প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ।

বক্তৃতার মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানা গেছে যে, ২০০০ সালে অনুস্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক চুক্তির (আইসিসিপিআর) আলোকে বাংলাদেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা, আইনের শাসন সুনিশ্চিতকরণ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় বর্তমান সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবহিত করবেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, তারেক রহমানের বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের আগস্টে জাতিসংঘের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২০০৫ সালের বিশ্ব সম্মেলনে বাংলাদেশের হয়ে ঐতিহাসিক বক্তব্য রেখেছিলেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। জেএফকে বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে এবং নিউইয়র্ক শহরজুড়ে ব্যানার ও পোস্টার প্রদর্শনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, যুবদল ও অঙ্গসংগঠন। স্থানীয় সময় আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির পক্ষ থেকে একটি স্বাগত মিছিল ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী করার রূপরেখা ঘোষণা করবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয় ২০০৫ সালের বিশ্ব সম্মেলনসহ (ওয়ার্ল্ড সামিট) জাতিসংঘের একাধিক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন এবং গণতন্ত্র ও সার্বজনীন মানবাধিকারের বিষয়গুলো বিশ্ব দরবারে সোচ্চ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই ভাষণে তিনি ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধান, বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারমূলক সংস্কার কার্যক্রম এবং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের সার্বিক চিত্র তুলে ধরবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বৈঠকে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের বিশেষ অবদান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক শাসনব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ স্থান পাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উচ্চপর্যায়ের ইভেন্ট টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) পর্যালোচনা, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং বিশ্বজুড়ে দেখা দেওয়া খাদ্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জবিষয়ক আলোচনায় তিনি অংশগ্রহণ করবেন।