
নিউইয়র্কে চলমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ডামাডোলের মাঝে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর ফক্স নিউজের একটি প্রতিবেদনে এই কূটনৈতিক যোগাযোগের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের সাবেক অভ্যন্তরীণ নীতি উপদেষ্টা থিও ওল্ড জানিয়েছেন, একটি নাটকীয় মুহূর্তের দৃশ্যপটে এই বৈঠকটি আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই বিশেষ মুহূর্তে দুই নেতার সাক্ষাৎ আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ট্রাম্পের কৌশল ও ইরানের অবস্থান
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, খুব শীঘ্রই তেহরানের বিষয়ে বড় ধরনের কোনো অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। ইরানের ক্ষেত্রে ট্রাম্প মূলত তিনটি ভিন্ন পথের কথা তুলে ধরেছেন
- সামরিক সক্ষমতার কঠোর প্রদর্শন বা নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ।
- অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি করা।
- কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে বসে সংকট নিরসনের চেষ্টা করা।
ট্রাম্পের প্রত্যাশা হলো, ইরান তার বিদ্যমান আচরণে পরিবর্তন আনবে এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এই অধিবেশনে নিজের দেশের অবস্থান তুলে ধরতে প্রস্তুত। তেহরানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তিনি শুধু সাধারণ পরিষদের মঞ্চেই বক্তব্য দেবেন না, বরং সাইডলাইনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় মিলিত হবেন। বিশেষ করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকগুলো আন্তর্জাতিক নজর কেড়েছে।
অধিবেশনের বর্তমান চিত্র
চলমান ৮১তম অধিবেশনে ‘আস্থা পুনর্গঠন ও কার্যকর জাতিসংঘ’ শিরোনামের মূল প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্বের নেতারা এক হয়েছেন। আগামী ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। এই বিতর্ক পর্বে আন্তর্জাতিক সংকটের সমাধানের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতারা একে অপরের সঙ্গে কৌশলগত আলাপ করবেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান তিক্ত সম্পর্কের বরফ গলানোর সুযোগ হিসেবে এই অধিবেশনকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে বিশ্ব কূটনৈতিক মহল। পেজেশকিয়ানের নিউইয়র্ক সফর সেই জটিল সমীকরণেরই একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফক্স নিউজকে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এবং হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ নীতি উপদেষ্টা থিও ওল্ড এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘এখানে কোরিওগ্রাফি মোটামুটি নাটকীয় মুহূর্তের জন্য তৈরি হতে যাচ্ছে।’।





