৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে রেডিও সংকেত শনাক্ত করলেন বিজ্ঞানীরা

Published: September 24, 2026, 7:44 pm

মহাবিশ্বে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা দশকের পর দশক ধরে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মহাকাশ থেকে আসা বিভিন্ন রেডিও তরঙ্গ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা চলছে। সম্প্রতি হার্ভার্ড অ্যান্ড স্মিথসিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিকস এবং ইউনিভার্সিটি অব ওরেগনের একদল গবেষক সৌরজগতের বাইরের একটি বহির্গ্রহ থেকে আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার মিরক্যাট রেডিও টেলিস্কোপ অ্যারের মাধ্যমে সংকেতটি ধরা পড়ে। গবেষকদের মতে, এটি ভিনগ্রহের কোনো প্রাণীর পাঠানো বার্তা নয়, বরং গ্রহটির বায়ুমণ্ডল ও চৌম্বক ক্ষেত্রের মিথস্ক্রিয়ায় সৃষ্ট মেরুজ্যোতি বা অরোরা থেকে তৈরি হয়েছে এই তরঙ্গ। অতীতে বহির্গ্রহ থেকে এ ধরনের সংকেত পাওয়ার নজির ছিল না, তাই এটি মহাকাশ গবেষণায় এক বিশেষ মাইলফলক।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিকসের বিজ্ঞানী কেভিন অরটিজের ভাষ্যমতে, ‘বিটা পিকটোরিস’ নক্ষত্রকে ঘিরে আবর্তনরত তিনটি গ্রহের মধ্যে ‘বিটা পিকটোরিস বি’ থেকে এই সংকেত এসেছে। পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৩ দশমিক ৪ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই নক্ষত্র ব্যবস্থার ওপর টেলিস্কোপের লেন্স স্থির করে পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রহটিতে নিয়মিত এবং দ্রুত বৃত্তাকার মেরুকরণের রেডিও বার্স্ট বা বিস্ফোরণ ঘটছে। মহাকাশের উজ্জ্বল গ্যালাক্সির কেন্দ্র বা কোয়েসারকে রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, সংকেতটি নক্ষত্র থেকে নয়, বরং গ্রহটি থেকেই নির্গত হচ্ছে।

গবেষণা অনুযায়ী, ইলেকট্রন সাইক্লোট্রন মেসার ইনস্ট্যাবিলিটি নামক একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই রেডিও তরঙ্গ উৎপন্ন হয়েছে। এই সংকেত বিশ্লেষণের মাধ্যমে গ্রহটির শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, গ্রহটির চৌম্বক ক্ষেত্র পৃথিবীর তুলনায় অন্তত হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী এবং এর উচ্চ ঘূর্ণন গতির কারণেই এমন অরোরা সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতি গ্রহের তুলনায় বিটা পিকটোরিস বি গ্রহটি প্রায় ১০ গুণ ভারী বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এই আবিষ্কার বহির্গ্রহের চৌম্বক ক্ষেত্র ও বায়ুমণ্ডলের প্রকৃতি বুঝতে বিজ্ঞানীদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেছে। এখন নিকটবর্তী অন্যান্য নক্ষত্র ব্যবস্থার বড় গ্রহগুলো নিয়েও গবেষণার পরিকল্পনা রয়েছে বিজ্ঞানীদের। পরবর্তী প্রজন্মের রেডিও অবজারভেটরিগুলোর সংবেদনশীলতা বাড়লে মহাকাশের আরও অজানা রহস্য উন্মোচন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন গবেষক দলটি।