
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। নিউইয়র্কে অবস্থানরত দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করা হলে আগামী সাত দিনের মধ্যেই এই নৌপথ দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব। সেই সাথে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার পথও প্রশস্ত হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
নিউইয়র্ক টাইমসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এই প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান দিক হলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাত বন্ধ করা। লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে সাত দিনের জন্য সকল ধরনের সশস্ত্র সংঘাত পুরোপুরি স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন আরাঘচি। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধার করাকে ইরান সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি আরও জানান, ইরান তাদের দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রস্তাবের প্রতি চীনের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন। ইরানের সামরিক বাহিনীর শাখা আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেন মোহেবি এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যোগ করেন যে, ইয়েমেনে চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটানোও তেহরানের প্রধান দাবিগুলোর একটি। উল্লেখ্য যে, এর আগে হরমুজ প্রণালিতে অনুমোদিত রুট থেকে বিচ্যুত হওয়ার অভিযোগে ইরান বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল।
ইরানের এই প্রস্তাবের আওতায় কেবল সামরিক দিক নয়, বরং অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবরুদ্ধ করে রাখা ইরানের অন্তত ১ হাজার ২০০ কোটি বা ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করতে হবে। এছাড়া, ইরানের তেলের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটির বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন নৌ-অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়ার কঠোর দাবি জানিয়েছে ইরান। যুদ্ধের পথ পরিহার করে এসব দাবি মেনে নিলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে মনে করছে দেশটি।





