
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দেশটিতে বিদেশি আধিপত্যের যুগ ফিরিয়ে আনার যে পাঁয়তারা চলছে, তা আর কোনোদিনই সফল হবে না। প্রতিরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে সোমবার প্রকাশিত এক বাণীতে তিনি এই মন্তব্য করেন। ১৯৮০ সালে সাদ্দাম হোসেনের ইরানি ভূখণ্ডে আগ্রাসন শুরুর স্মরণে ইরানে এই প্রতিরক্ষা সপ্তাহ পালন করা হয়। খামেনি বলেন, একসময় দক্ষিণ ইরানের দুই সাগর শত্রু বাহিনীর জন্য ‘খেলার মাঠের’ মতো ছিল। শিগগিরই আরব সাগর থেকেও ‘শত্রু বাহিনীকে’ হটিয়ে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে লেবাননের প্রয়াত হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ হত্যার দ্বিতীয় বার্ষিকীও এ সময় স্মরণ করা হয়। কিন্তু সাহসী ইরানি যোদ্ধা এবং হরমুজ প্রণালির রক্ষকদের কাছ থেকে ‘বেদনাদায়ক আঘাত’ পাওয়ার পর তারা এখন আরব সাগরের ওপারে যাওয়ার সাহস করে না।
বাণীতে খামেনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতে দক্ষিণাঞ্চলীয় জলসীমা শত্রুদের জন্য অবাধ বিচরণের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল। তবে যখনই তারা সেখানে কোনো দুঃসাহস দেখিয়েছে, তখনই তাদের বড় ধরনের খেসারত দিতে হয়েছে। সেই সংঘাতের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, তৎকালীন সময়ে বিপ্লবের দ্যুতি পুরো দেশে জাতীয় ঐক্য এবং ইসলামী আদর্শের প্রতি অবিচল আনুগত্যের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি বলেন, যখনই তারা এমন ঝুঁকি নিয়েছে, তখন নিজেরাই ক্ষতির মুখে পড়েছে। যুদ্ধের দিনগুলোর কথা উল্লেখ করে খামেনি বলেন, ইরানজুড়ে বিপ্লবের সূর্যের উষ্ণ রশ্মি জাতীয় সংহতি এবং বিপ্লবী ইসলামের আদর্শ ও পথের প্রতি আনুগত্যের অনুভূতি ছড়িয়ে দিয়েছিল।
এদিকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পূর্ববর্তী সময়কালকে অন্ধকারাচ্ছন্ন অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন খামেনি। তিনি অভিযোগ করেন, সে সময় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর প্রতিনিধিরা সরাসরি তৎকালীন সম্রাটের কাছে হুকুম পাঠাতেন এবং শাসকগোষ্ঠী তা অন্ধের মতো পালন করত। তবে একাত্তরের ইসলামি বিপ্লব সেই গোলামির জিঞ্জির ভেঙে দিয়েছে, যা আধিপত্যকামী শক্তিগুলোর জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়েছিল। তবে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগের সময়কে ‘অন্ধকার দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন খামেনি।





