১৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরাইলি ফুটবলারদের সঙ্গে করমর্দন করেননি আইরিশরা

Published: September 28, 2026, 2:41 pm

হাঙ্গেরির দেব্রেসেনের নাগিয়ারদেই স্টেডিয়ামে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে আয়ারল্যান্ড ও ইসরাইলের মধ্যকার লড়াইয়ের আগে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মাঠে নামার পর আয়ারল্যান্ডের ফুটবলাররা ইসরাইলি খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করা থেকে বিরত থাকেন। এমনকি টসের সময় আইরিশ অধিনায়ক দারা ও’শিয়া রেফারিদের সঙ্গে হাত মেলালেও ইসরাইলি অধিনায়ক মানোর সলোমনের সঙ্গে করমর্দন করেননি। দুই দলের মধ্যে প্রথাগত পেন্যান্ট বিনিময়ও সম্পন্ন হয়নি। মাঠে অল্পসংখ্যক ইসরাইলি সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

ম্যাচের আগে আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআই) আগেই উয়েফাকে তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল, যেখানে ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা সম্মতি প্রদান করে। আইরিশ খেলোয়াড়রা এ সময় কালো আর্মব্যান্ড পরিধান করেন এবং ইসরাইলের জাতীয় সংগীত চলার সময় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকেন। এফএআইয়ের ভাষ্যমতে, এই প্রতীকী পদক্ষেপগুলো মূলত সংঘাতে নিহত সব মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ। এছাড়া ম্যাচ থেকে অর্জিত অর্থ দাতব্য কাজে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। বাজুনুর সিদ্ধান্তের পর দলের অন্য খেলোয়াড়রাও ম্যাচ খেলা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন।

ম্যাচটি শুরু হওয়ার আগে আয়ারল্যান্ডের অন্দরে বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। ১৬০ জনের বেশি আইরিশ ক্রীড়াবিদ ম্যাচটি বয়কটের দাবি জানিয়ে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনু ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও নিরপরাধ মানুষ হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে ম্যাচ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন এবং দল থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন। পরিস্থিতি এতই জটিল আকার ধারণ করে যে, শেষ মুহূর্তে খেলোয়াড়দের মধ্যে ভোট গ্রহণ করা হয়। এফএআই প্রধান নির্বাহী ডেভিড কাউরেল জানান, উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ খেলোয়াড় ম্যাচটি খেলার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। মাঠের বাইরে অবশ্য ম্যাচটি নিয়ে আরো বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিরপরাধ মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে নিজের বিশ্বাসের কারণে ইসরাইলের বিপক্ষে খেলায় অংশ নেওয়া তার পক্ষে সঠিক হবে না। ইসরাইলের বিপক্ষে খেলাকে ঘিরে আয়ারল্যান্ডে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিবাদ চলছে।

প্রায় দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আয়ারল্যান্ড ফুটবলীয় নৈপুণ্যে ইসরাইলকে ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত করে। প্রথমার্ধেই ট্রয় প্যারট, অ্যাডাম আইডাহ ও জ্যাক ময়লান গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে ইসরাইল গোল শোধের চেষ্টা করলেও আয়ারল্যান্ডের গোলরক্ষক কাওইমহিন কেলেহার তাদের সব প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন। ইসরাইলি সমর্থকদের জন্য সীমিত টিকিট থাকলেও আইরিশ দর্শকদের জন্য কোনো টিকিট বরাদ্দ করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলেই জয় পায় আয়ারল্যান্ড।

ম্যাচের আগে কোচ হেইমির হালগ্রিমসনও এই পরিস্থিতি নিয়ে অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলেন। উল্লেখ্য যে, আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এর আগেই উয়েফার কাছে ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার আবেদন জানিয়েছিল, তবে উয়েফা তা নাকচ করে দেয়। দলের ভেতরেও তীব্র আলোচনার কারণে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন ও অনুশীলন পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল এফএআই।

আগামী ৪ অক্টোবর সার্বিয়ার বাক্কা তোপোলায় দুই দলের আরেকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে এটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজিত হবে। তবে সেই ম্যাচকে ঘিরেও প্রতিবাদ ও বয়কটের দাবি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পুরো ঘটনাটি শুধুমাত্র খেলার মাঠে সীমাবদ্ধ না থেকে আয়ারল্যান্ডের বৃহত্তর জনপরিসরেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ফলে জাতীয় দলের সিদ্ধান্তের বিষয়টি শুধু ফুটবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; দেশটির বৃহত্তর জনপরিসরেও তা ছড়িয়ে পরেছে।