১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ

Published: September 29, 2026, 12:13 pm

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদের সহধর্মিণী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলীকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে পুত্রাজায়ার পুসারা নেগারা বা জাতীয় কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। ১০০ বছর বয়সে তিনি পরলোকগমন করেন। এর আগে, সোমবার সকালে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। ঐতিহাসিক এই শেষ বিদায়ের মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন শোকসন্তপ্ত স্বামী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদ, তাদের সন্তান ও পরিজনরা।

সিতি হাসমাহর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম গভীর শোক প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি ড. সিতি হাসমাহর শেষকৃত্য যেন পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়, সেই নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারের প্রধান সচিব এবং প্রতিরক্ষা প্রধান যৌথভাবে এই শেষকৃত্যের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করেন। জানাজা শেষে মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী ও রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশের যৌথ সামরিক প্রটোকলে তার মরদেহ পুসারা নেগারায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে সেরি কেমবাঙ্গানের আস-শরিফ মসজিদে আসরের নামাজের পর মরহুমার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পারিবারিক সদস্য ছাড়াও হাজারো সাধারণ মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে অংশ নেন। সশস্ত্র বাহিনীর আটজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মরদেহ বহনের আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে দাফনস্থলে পুত্রা মসজিদের গ্র্যান্ড ইমাম ড. মুহাম্মদ জাকুয়া রদজালি তালকিন পাঠ পরিচালনা করেন। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে মরহুমার পরিবারের হাতে মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা ‘জালুর গেমিলাং’ তুলে দেন সরকারি অনুষ্ঠান কমিটির চেয়ারম্যান দাতুক আবদ শোকর মাহমুদ। তিনি তৎকালীন কেদাহ রাজ্যের প্রথম মালয় নারী মেডিকেল অফিসার হিসেবে সেবা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, সিতি হাসমাহর মাতৃসুলভ ব্যক্তিত্ব, অকৃত্রিম চরিত্র এবং জাতির প্রতি অসামান্য সেবা মালয়েশিয়ার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ১৯৪০-এর দশকের শেষভাগে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাবিদ্যা অধ্যয়নকালে মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। দীর্ঘ ৭০ বছরের দাম্পত্য জীবনে তারা সাত সন্তানের জনক-জননী হিসেবে এক সুখী পরিবার গড়ে তুলেছিলেন। আধুনিক মালয়েশিয়ার জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক আন্দোলনের অন্যতম রূপকার হিসেবে পরিচিত এই মহীয়সী নারীকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননার মধ্য দিয়ে বীরের বেশে শেষ বিদায় জানানো হলো। এ সময় উপস্থিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বরা দেশের জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণ খাতে সিতি হাসমাহর যুগান্তকারী অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।