
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে চলমান সংকট নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বৈঠক কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে। প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাসে সন্তুষ্ট হতে না পেরে শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। সোমবার রাতে নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় শেষে শিক্ষার্থীরা এই কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা আন্দোলন থেকে সরে ক্লাসরুমে ফিরুক।
বৈঠকের প্রেক্ষাপট ও প্রশাসনের ভূমিকা
এর আগে সোমবার বিকেলে সাড়ে চারটার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তাঁরা ক্যাম্পাসে এসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। সিটি প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, তাঁরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্তি, বিজ্ঞানাগার ও খেলার মাঠের সংকট নিরসনের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। তবে এসব আশ্বাস শিক্ষার্থীদের সন্তুষ্ট করতে ব্যর্থ হয়। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মুক্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ১৪ শিক্ষক অবরুদ্ধ। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে টানা ২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ অধ্যক্ষ–শিক্ষক, জানালা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে খাবার। কিন্তু যখন আমরা ক্যাম্পাসে গেলাম, তখন কিছু শিক্ষার্থী আন্দোলন থেকে সরতে রাজি হন, আবার কেউ বিরোধিতাও করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি ও অধ্যক্ষ ইস্যু
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজে বর্তমানে তিনটি বিভাগের পাঁচটি ব্যাচে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। বর্তমানে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীদের মূল দাবি হলো, কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে পুরোপুরি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা, অন্যথায় কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা। এই দাবির পাশাপাশি আলোচনার সময় শিক্ষার্থীরা কলেজের অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মো. আসাদুজ্জামানের বদলির প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি তোলেন। সিটি প্রশাসক স্পষ্ট জানান যে, এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সমাধান দেওয়া সম্ভব নয় এবং তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দেন। সুনির্দিষ্ট সমাধান না আসায় শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে সন্ধ্যায় কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই কর্মকর্তাদের বিদায় জানান এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তে আন্দোলনে অটল থাকার ঘোষণা দেন। শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরাও আমাদের কথায় আশ্বস্ত হন।
শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মুক্তি এবং বর্তমান পরিস্থিতি
- সোমবার রাত ১০টার দিকে ৩৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর কলেজের ২০ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে মুক্ত করে দেন শিক্ষার্থীরা।
- শিক্ষকরা অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হলেও ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে রাখায় ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে পারছেন না তারা।
- কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা মো. আসাদুজ্জামান জানান, শিক্ষার্থীরা ফটকে তালা দেওয়ায় কেউ ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে পারছেন না এবং স্থানীয় প্রশাসনের বৈঠকের পরেও অচলাবস্থা কাটেনি।
- গত রোববার বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন, যা মঙ্গলবার পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুরো ক্যাম্পাসে এখনো এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বলে জানা গেছে, তবে প্রশাসনিক সমাধান না আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ে কঠোর অবস্থানেই অনড় থাকার বার্তা দিয়েছেন। ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের পাশাপাশি বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলন্ত অবস্থায় থাকায় নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।





